খাদ্য সামগ্রী চেয়ে ও বাস চালুর দাবিতে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে সিরাজগঞ্জ শহরের এম এ মতিন বাস টার্মিনালের সামনের সড়ক অবরোধ করে বাস শ্রমিকরা বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে।
বিক্ষোভ চলাকালে শ্রমিকরা বলেন, করোনার কারণে প্রায় দেড় মাস ধরে সিরাজগঞ্জর সকল বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে সিরাজগঞ্জের প্রায় ৫ হাজার পরিবহণ শ্রমিক কাজ হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েছে। তাদের ঘরে এখন খাদ্য নাই। হাতে কোন টাকা পয়সা নাই। মালিক-শ্রমিক নেতারা খোঁজ নেয় না। ফলে তারা পরিবার পরিজন নিয়ে অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছেন। বারবার শ্রমিক নেতাদের বলেও কোন লাভ হচ্ছে না।
অবরোধকারীরা আরো বলেন, শ্রমিক নেতারা সারা বছর শ্রমিক কল্যাণ ফান্ডের নামে চাঁদা উত্তোলন করেন। অথচ এই মহামারির সময় শ্রমিক ইউনিয়নের পক্ষ থেকে আমাদের কোন সাহায্য সহযোগিতা করা হচ্ছে না। সরকারি ভাবেও আমরা কোন সাহায্য পাইনি। তাই বাধ্য হয়ে খাদ্য ও কাজের দাবিতে সড়কে অবস্থান নিয়েছি।
এদিকে এ অবরোধ চলাকালে সড়কের দুই পাশে শত শত ট্রাক, কাভার্ড ভ্যানসহ যানবাহন আটকা পরে।
খবর পেয়ে দুপুরে সিরাজগঞ্জ বাস শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা এসে শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেয়। এতে তারা আশ্বস্ত হতে না পেরে অবরোধ চালিয়ে যায়। খবর পেয়ে সদর থানা পুলিশ তাদের বুঝিয়ে অবরোধ তুলে দেওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় বিক্ষোভকারীরা তাদের দাবিতে আরো অনড় হয়ে সড়কে শুয়ে পড়ে।
পরে প্রশাসনের লোকজন এসে দ্রুত তাদের দাবি পূরণের আশ্বাস দিলে তারা অবরোধ তুলে নেয়।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আনছার আলী বলেন, দীর্ঘ দেড় মাস ধরে গণপরিবহণ বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা বেকার হয়ে পড়েছেন। পেটের দায়ে তারা রাস্তায় নেমেছেন। প্রায় সাড়ে ৫ হাজার শ্রমিকের জন্য জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে মাত্র ৪০০ ব্যাগ ও পৌর মেয়রের পক্ষ থেকে ১০০ ব্যাগ খাদ্য সামগ্রী দিয়েছে। যা সাড়ে ৫ হাজার শ্রমিকের জন্য যথেষ্ট নয়।