সচেতনতা-গ্রেপ্তার মিলে করোনামুক্ত পুরুলিয়া

‘শিমুল–পলাশের দেশে নো পজিটিভ’ ট্যাগলাইনে সোশ্যাল সাইটে প্রচার করছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। সেখানে করোনামুক্ত পুরুলিয়ার একটাই রহস্য বলে জানানো হলো— যে কোনো মূল্যে সামাজিক দূরত্ব মেনে চলা।

সংবাদ প্রতিদিন জানায়, বিষয়টি ততটা সহজ ছিল না। নিয়মিত সচেতনতার পাশাপাশি গ্রেপ্তার ও মামলা-মোকদ্দমায় যেতে হয়েছে স্থানীয় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনিকে।

সামাজিক দূরত্বের সঙ্গে লকডাউন সফল করতে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত মোট ৬৪টি মামলায় ৩১৩ জন গ্রেপ্তার হয়েছে। পাঁচটি চার চাকা, দশটি টোটো, ১১০টি মোটরবাইক ও একটি সাইকেলও বাজেয়াপ্ত করেছে পুরুলিয়া জেলা পুলিশ। সেই সঙ্গে এই রোগ নিয়ে গুজব ছড়ানোয় ছয়টি মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছে দশ জন।

জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরের হিসাব বলছে, বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত ১৬১ জনের লালারসের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তার মধ্যে ১১৩টি নেগেটিভ। বাকি ৪৮টির এখনো রিপোর্ট আসেনি।

জেলা প্রশাসক রাহুল মজুমদার বলেন, “এখনো পর্যন্ত পুরুলিয়া করোনামুক্ত হওয়ার অধিকাংশ কৃতিত্বই আমি জেলার মানুষজনকে দিতে চাই। তারা আমাদের মতই দিন–রাত লড়াই না করলে এই কাজ সম্ভব হত না। জেলার আম জনতাও একেকজন করোনা যোদ্ধা।”

লকডাউন সফল করতে পুরুলিয়ার পুলিশ সুপারকে যেমন রাস্তায় নামতে হয়েছে। তেমনই মাস্ক সচেতনতায় পথে নেমে প্রচার করেছেন জেলা প্রশাসক। গ্রামে-গ্রামে গিয়ে হাত ধোওয়ার স্বাস্থ্যবিধি বুঝিয়েছেন পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্য রাজ্য থেকে আসা মানুষজনকে ঘরবন্দী থাকতে বাধ্য করা হয়েছে।

পুলিশ সুপার এস. সেলভামুরুগনের কথায়, “আমরা বারবার মানুষকে বোঝাচ্ছি খুব প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বার হবেন না। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখুন।” তাই পুরুলিয়া জেলা পুলিশ প্রতিদিন আকাশে ড্রোন ওড়াচ্ছে।

এ দিকে জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী ভারতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৩৪ হাজার ৮০০ ছাড়িয়েছে। দেশটিতে মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ১৫৪ জন।