হাসপাতাল ছেড়ে বাড়িতে মরতে চেয়ে ছেলের যত্নে বাঁচলেন বৃদ্ধ

এ যেন সাক্ষাৎ যমরাজকে হারিয়ে দেয়া। ডাক্তার বলেছিলেন সব আশা শেষ। করোনায় আক্রান্ত বৃদ্ধ বাবাও মৃত্যুর প্রহর গুনছিলেন। হঠাৎ ছেলের কাছে অনুরোধ, ‍আমি বাড়িতে বসে মরতে চাই। বাবা সূর্যকান্ত নাথওয়ানির এমন ইচ্ছায় তাকে বাড়িতে এনে শেষ পর্যন্ত বাঁচিয়ে তুলেছেন ছেলে রাজ নাথওয়ানি!

অসম্ভবকে সম্ভব করার বাবা-ছেলের এমন গল্প মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন প্রকাশ করেছে। হাসপাতাল থেকে বাড়িতে আসার সেদিনের বর্ণনা দিতে গিয়ে রাজ বলেন, ‘বাবা বাড়িতে নেয়ার অনুরোধ করেন আমাকে। বলছিলেন, যেতে হয় তো যাব, বাড়ি থেকেই যাব। আমাকে নিতে পারবে না?’

জন্মদাতার এমন অনুরোধ ফেলেননি ৫৫ বছর বয়সী রাজ। পরিবারের অন্যদের সংক্রমণের ঝুঁকি জেনেও ৮১ বছর বয়সী বাবাকে বাড়িতে নিয়ে যান।

রাজ সেই জানুয়ারি থেকে নভেল করোনাভাইরাসের চিকিৎসা বিষয়ক তথ্য খেয়াল করছিলেন। মহামারী শুরু হওয়ার পর মা-বাবাকে নিয়ে হোম কোয়ারেন্টাইন শুরু করেন। বাবার শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যার কারণে আগে থেকেই এসব সতর্কতা অবলম্বন করেন। কিন্তু তার বাবার হাঁটার অভ্যাস বিপাকে ফেলে। বিকেলে হাঁটতে গিয়ে সংক্রমিত হন বলে ধারণা রাজের।

রাজ তার বাবাকে হাসপাতাল থেকে বাড়ি আনার দিন নিজেই উপরের ঘর পরিষ্কার করেন। মাকে নিয়ে আসেন নিচে। নিজের অল্প অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এবং হাসপাতালের পরামর্শ অনুযায়ী, ঘরেই ওয়ার্ড বানিয়ে ফেলেন। সঙ্গে প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে আইপ্যাড সেট করেন, যোগ করেন বেবি মনিটর, যাতে বাইরে থেকেও খেয়াল রাখতে পারেন।

বাড়িতে এনেই বাবাকে বলেন, ‘তুমি মরছ না। আমরা তোমাকে ভালো করব।’

রাজের সব চেষ্টার পরও গত ২৫ মার্চ তার বাবার অবস্থা খারাপ হতে থাকে। ফুসফুসের অবস্থা খারাপ হলেও জ্বর খুব একটা ছিল না।

সূর্যকান্তের শ্বাসকষ্টের সমস্যা হলে সিপিএপি মেশিনের সাহায্য নেন রাজ। এটি দিয়ে ক্রমাগত অক্সিজেন দেয়া যায়।

এভাবে কয়েক দিন যাওয়ার পর সূর্যকান্ত বেশ সুস্থ হয়ে ওঠেন। হঠাৎ হাসপাতাল থেকেও সুখবর আসে, ‘করোনা নেগেটিভ!’