অবহেলায় রোগীর মৃত্যু: ইউনাইটেড হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ

অবহেলায় রোগীর মৃত্যুর অভিযোগে রাজধানীর গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালের বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

মাহমুদা খানম (৭৫) নামে একজনের মৃত্যুর ঘটনায় তার ছেলে ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দারের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গোলাম মোস্তফা শাহীন গত বৃহস্পতিবার ই-মেইলে নোটিশটি পাঠান।

শনিবার আইনজীবী জানান, হাসপাতালটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রহমান খান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফাইজুর রহমানের কাছে রোগীর চিকিৎসায় অবহেলা, স্বজনদের প্রতি অশোভন আচরণের অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নোটিশ প্রাপ্তির ১৫ দিনের মধ্যে ব্যাখ্যা না পেলে আইন অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

কম্বোডিয়া প্রবাসী ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার ওয়ার্ল্ড ব্যাংক গ্রুপে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

নোটিশে ডা. জিয়াউদ্দিন হায়দার জানান, গত ৫ এপ্রিল তার মায়ের নিউমোনিয়া ধরা পড়ে ও রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমতে থাকে। এরপর উত্তরার একটি ক্লিনিকে নিয়ে অক্সিজেনের ব্যবস্থা করা হয়। করোনা পরীক্ষায় নেগেটিভ রিপোর্ট এলে তাকে ১২ এপ্রিল মধ্যরাতে ইউনাইটেড হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।

রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা ৫০ শতাংশের কম থাকায় রোগীকে ভেন্টিলেটরের মাধ্যমে অক্সিজেন দেওয়া হয়। কিন্তু লাইফ সাপোর্টে থাকা অবস্থায় ১৪ এপ্রিল তাকে তড়িঘড়ি করে ওই হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেয় কর্তৃপক্ষ। এরপর তাকে কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে ভর্তি করা হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৩ এপ্রিল মারা যান মাহমুদা খানম।

ডা. জিয়াউদ্দিন জানান, ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ১৪ এপ্রিল তার ভাইদের ডেকে জানায়, মাহমুদা খানমের দ্বিতীয় কোভিড-১৯ পরীক্ষাটি পজিটিভ হওয়ায় তাকে এ হাসপাতাল থেকে সরিয়ে নিতে হবে।

তিনি বলেন, রোগীর স্বজনরা অনুরোধ করলেও কোনো মোবাইল ভেন্টিলেটর ছাড়াই ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মাহমুদা খানমকে কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী হাসপাতালে নিয়ে যেতে বাধ্য করে।

নোটিশে ডা. জিয়াউদ্দিন জানান, ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নীতিহীন, আইনবহির্ভূত সিদ্ধান্তের কারণে তার মায়ের মৃত্যু হয়েছে। লাইফ সাপোর্টে থাকা একজন রোগীকে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছাড়া অন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া কিছুতেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটি একটি হত্যাকাণ্ড।