ইউরোপে অনিশ্চিত ফুটবল মৌসুম

করোনাভাইরাসের কারণে স্থগিত থাকা ইংলিশ ফুটবল লিগ চালু করতে চাইছে কর্র্তৃপক্ষ। কবে শুরু হবে তা এখনো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি নিয়ে সবার সঙ্গে আলোচনায় বলা হয়েছে, মৌসুম শেষ করতে নিরপেক্ষ ভেন্যুই ‘একমাত্র উপায়’ হতে পারে। গেল শুক্রবার লিগের দলগুলোর সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সে বসেছিল লিগ কর্র্তৃপক্ষ। বৈঠক শেষে বলা হয়েছে লিগ নিয়ে কোনো ধরনের সিদ্ধান্ত হয়নি, শুধু আলোচনা হয়েছে। লিগ শেষ হতে এখনো বাকি ৯২ ম্যাচ। রয়টার্সের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, একটি সূত্র তাদের জানিয়েছে ক্লাবগুলোকে বলা হয়েছে স্বাস্থ্যবিধি ও সুরক্ষা মেনে বাকি ম্যাচগুলো হতে পারে নিরপেক্ষ ভেন্যুতে। ২০১৯-২০ মৌসুম পুনরায় শুরু করতে কমপক্ষে ১০টি স্টেডিয়াম প্রয়োজন। সঙ্গে ইংলিশ লিগের খেলোয়াড় ও স্টাফ মিলিয়ে ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষের কভিড-১৯ পরীক্ষাও করাতে হবে। ধারণা করা হচ্ছে মে’র শেষে অনুশীলনে এবং জুনে চালু হতে পারে প্রিমিয়ার লিগ।

শঙ্কায় বুন্দেসলিগার ফেরা : সবার আগে অনুশীলন শুরু করেছিল বুন্দেসলিগার দলগুলো। ধারণা করা হচ্ছিল দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে ৯ মে থেকে শুরু হতে পারে লিগ। কিন্তু দেখা দিয়েছে নতুন সংশয়। অনুশীলনে নামার আগে করোনা পরীক্ষায় পজিটিভ এসেছে এফসি কোলনের তিন খেলোয়াড়ের। তার আগেই জার্মান সরকারের সিদ্ধান্তহীনতায় পিছিয়ে গেছে বুন্দেসলিগার ফেরার দিনক্ষণ। গত সপ্তাহে ৯ মে লিগ শুরু করার জন্য তৈরি বলে জানিয়েছিল জার্মান ফুটবল ফেডারেশন। তবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সরকার জানাবে বলেও নিশ্চিত করেছিল তারা। ৬ মে আবারও বৈঠক হবে জানানো হয়েছিল। তার আগে এলো  কোলনের তিন খেলোয়াড়ের করোনা পজিটিভের খবর। পরীক্ষার আগে তাদের করোনার কোনো উপসর্গ ছিল না। আক্রান্ত তিনজনকে পাঠানো হয়েছে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে। বুন্দেসলিগার ক্লাবগুলো চাইছে ৩০ জুনের মধ্যে লিগ শেষ করতে। আর তা করতে পারলে টেলিভিশন স্বত্ব থেকে আয় হবে ৩০০ মিলিয়ন ইউরো।

ডেনমার্কের লিগ ২৯ মে! : ডেনমার্কের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিইউ) আশা করছে ২৯ মে আবারও মাঠে ফিরতে পারবে ঘরোয়া ফুটবল লিগ সুপার লিগা। উয়েফা ২৫ মে’র মধ্যে সদস্য দেশগুলোকে লিগ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত জানাতে বলেছিল। এর প্রেক্ষিতে শুক্রবার এক বিবৃতিতে ডিবিইউ জানিয়েছে, ‘মৌসুম শেষ করতে খেলোয়াড়দের স্বাস্থ্য সুরক্ষাসহ ২৯ মে’র মধ্যে আবারও থ্রিএফ সুপারলিগা শুরু করা দরকার।’ তবে ২৯ মে ড্যানিশ লিগ শুরু হবে কি না তা নির্ভর করছে সরকারের ওপর।

লিঁওর ক্ষতিপূরণ দাবি : ফরাসি ফুটবল লিগ বাতিল করা হয়। বাতিল করার আগ মূহূর্ত পর্যন্ত হওয়া খেলায় পিএসজি এগিয়ে ছিল। গড় পয়েন্টের ভিত্তিতে শিরোপা এবং অন্যান্য স্থান নির্ধারণ করা হয়। যাতে পিএসজি চ্যাম্পিয়ন হয়। কিন্তু কপাল পুড়ে অলিম্পিক লিঁওর। সপ্তম স্থানে থাকায় ইউরোপা লিগে জায়গা হয়নি তাদের। তাই এর ক্ষতিপূরণ চাইছেন ক্লাবটির প্রেসিডেন্ট জেন-মিকেল আউলাস। তিনি বলেন, ‘এটি এমন একটি ক্ষতি হয়েছে যার আর্থিক মূল্য কয়েক মিলিয়ন ইউরোর সমান। আমরা ক্ষতিপূরণ হিসেবে দাবি করব এই অর্থ। লিগ টেবিলের অবস্থানগুলো অযৌক্তিক। নিস আমাদের চেয়ে বেশি হোম ম্যাচ খেলেছে। তারা পিএসজির বিপক্ষে একবার মুখোমুখি হয়েছে, আমরা দুইবার।’ নিস, রেইমসের পয়েন্ট ২৮ ম্যাচে ৪১। লিঁওর পয়েন্ট সমান ম্যাচে ৪০। উল্লেখ্য, ২০০১-০২ মৌসুম থেকে ২০০৭-০৮ মৌসুম পর্যন্ত লিঁও টানা ৭ বার লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়। গত দুই মৌসুমেও দলটি ছিল তৃতীয় স্থানে।

শীর্ষ চার লিগের ভাগ্য : করোনাভাইরাসের কারণে যদি ফরাসি লিগের দেখানো পথে হাঁটে বাকি শীর্ষ ৪ লিগ, তবে কী হতে পারে সেগুলোর অবস্থা, এক নজরে দেখে নেওয়া যাক লা লিগা : লা লিগা বাতিল হলে চ্যাম্পিয়ন হবে বার্সেলোনা। দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ২ পয়েন্টে এগিয়ে আছে তারা। ২৭ ম্যাচ শেষে বার্সার পয়েন্ট ৫৮। ২০২০-২১ মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বার্সা-রিয়ালের সঙ্গে যোগ দেবে সেভিয়া ও রিয়াল সোসিয়েদাদ। আতলেতিকো মাদ্রিদকে খেলতে হবে ইউরোপা লিগে। তাদের সঙ্গী হবে গেতাফে। লেগানেস, রিয়াল মায়োর্কা ও এস্পানিওল দ্বিতীয় বিভাগে নেমে যাবে।

সিরি আ : ইতালিয়ান লিগে বড় ক্ষতিটা হবে লাৎসিওর। থেমে যাবে তাদের বিস্ময়কর যাত্রা। জুভেন্টাসের চেয়ে মাত্র ১ পয়েন্ট পিছিয়ে দলটি। আবারও চ্যাম্পিয়ন হবে রোনালদোর দল জুভেন্তাস। ৬৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে আছে তারা। সঙ্গে ইন্তার মিলান ও আতালান্তা খেলবে আগামী মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে। ইউরোপা লিগে খেলবে এএস রোমা ও নাপোলি। লেসে, স্পাল ও ব্রেসিয়া সিরি বি’তে নেমে যাবে।

বুন্দেসলিগা : চ্যাম্পিয়ন হবে বায়ার্ন মিউনিখ। ৫১ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা বুরুশিয়া ডর্টমুন্ড চেয়ে ৪ পয়েন্টে এগিয়ে আছে বায়ার্ন। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে তাদের সঙ্গী হবে আরবি লিপজিগ ও বরুশিয়া মনসেন গ্লাডবাখ। বায়ার লেভারকুসেন ও শালকে ০৪ খেলবে ইউরোপা লিগে। ওয়েডার ব্রেমেন ও পাডেরবর্ন নেমে যাবে বুন্দেসলিগা টুতে।

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ : লিভারপুলের ৩০ বছরের শিরোপা আক্ষেপ ঘুচবে। ২৯ ম্যাচে ৮২ পয়েন্ট ইয়ুর্গেন ক্লপের দলের। ১ ম্যাচ বেশি খেলে ম্যানসিটির চেয়ে এগিয়ে তারা ২৫ পয়েন্টে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগে লিভারপুলের সঙ্গী হবে ম্যানচেস্টার সিটি, লেস্টার সিটি ও চেলসি। তবে উয়েফা নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্তি না পেলে ম্যানসিটির জায়গায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড সুযোগ পেতে পারে। উল্ভারহ্যাম্পটনের সঙ্গে ম্যান ইউনাইটেডের ইউরোপা লিগে খেলার কথা। তবে রেড ডেভিলরা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে সুযোগ পেলে ভাগ্য খুলতে পারে শেফিল্ডের। বোর্নমাউথ, অ্যাস্টন ভিলা ও নরউইচ সিটির অবনমন হবে।