পৃথিবীর বিভিন্ন আদিবাসী গোষ্ঠীগুলো চার শ বছর ধরে প্রকৃতি ধ্বংসের ভয়াবহ পরিণতি নিয়ে মানুষদের সতর্ক করে আসছে। কিন্তু বিশ^বাসী তাদের কথায় কান দেওয়া দূরের কথা, উল্টো আদিবাসীদের বসবাসের স্থান পর্যন্ত কেড়ে নেওয়ার সব জোগাড় যন্ত্র করছে প্রতিমুহূর্তে। কোস্টারিকার সবচেয়ে বড় আদিবাসী গোষ্ঠীর নাম ব্রিব্রি। এই গোষ্ঠীর এক নেতা রোমেরোর বাস তালামাঞ্চা পার্বত্য অঞ্চলে। চীনে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সংবাদ শুনে তিনি বুঝতে পারেন খুব বেশি সময় লাগবে না গোটা বিশ্বে ওই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে। রোমেরোর মতে, ‘আমাদের জনগণের সাংস্কৃতিক জ্ঞান আছে। আমাদের দেবতা সাইব এই পৃথিবী তৈরি করেন, যার মধ্যে তিনি কিছু বাজে শক্তি বন্দি করে রাখেন। প্রকৃতিকে ধ্বংস করলে এবং একত্র থাকার পরিবেশ নষ্ট করলে ওই বাজে শক্তিরা বের হয়ে আসে।’
কয়েক বছর ধরেই রোমেরো ও অন্য আদিবাসী নেতারা বৈশি^ক নেতাদের বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন, কীভাবে আদিবাসীদের পন্থা অনুসরণ করে প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থান করা যায়। মানুষ ও পৃথিবীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা করে কীভাবে চাষাবাদ থেকে শুরু করে বাস করা যায়, তা তারা বোঝানোর চেষ্টা করেন। নিউ ইয়র্ক লকডাউনের আগের দিন ব্রাজিল ও ইন্দোনেশিয়ার আদিবাসী নেতারা সতর্ক করে বলেন, বনাঞ্চল ধ্বংসের ফলে শুধু জলবায়ুর পরিবর্তন ঘটে না, পাশাপাশি প্রাণবৈচিত্র্য ধ্বংস হয়। তাদের মতে, ‘প্রাকৃতিক সম্পদের ভুল ব্যবহারের কারণে এই মহামারীর সৃষ্টি হয়েছে। এমন মহামারী আরও আসবে সামনে।’ করোনাভাইরাসের মতো অনেক ভাইরাসই বিভিন্ন প্রাণী থেকে সৃষ্টি হয়। বনাঞ্চল ধ্বংসের কারণে এসব প্রাণীর সঙ্গে মানুষের সংযোগ ঘটে। ফলে ভাইরাস সহজেই মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ছে। ২০১৭ সালে ন্যাচার কমিউনিকেশন পেপারে এক গবেষণায় বলা হয়, গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে অধিক ভূমি অধিগ্রহণের ফলে রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়িয়ে দিচ্ছে। স্ট্যানফোর্ড বিশ^বিদ্যালয়ের জীববিজ্ঞানী এরিন মর্দেকাইয়ের মতে, ‘এটা গাণিতিক সূত্রের মতো প্রক্রিয়া। বিশেষ মানুষ ও বিশেষ প্রাণীর মধ্যে সংযোগের ফলে ছড়িয়ে পড়তে পারে। বনরুইয়ের কারণে এই ভাইরাসের সূত্রপাত হতেই পারে।’ প্রতিটি রোগ ভিন্ন হলেও বনাঞ্চল উজাড়ের কারণে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হওয়ার আশঙ্কা কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ২০০৩ সালে চীন সরকার বণ্য প্রাণী কেনাবেচা বন্ধ করলেও এই বাণিজ্য দেশটিতে থামেনি, যার খেসারত এখন গোটা মানবজাতিকে দিতে হচ্ছে।