বাংলাদেশে সমালোচিত ‘এক্সট্র্যাকশন’ এবার দ্বিতীয় কিস্তিতে

ঢাকার প্রেক্ষাপটে নির্মিত নেটফ্লিক্সের সমালোচিত সিনেমা ‘এক্সট্র্যাকশন’-এর সিক্যুয়ালের পরিকল্পনা করেছেন নির্মাতারা। এ খবর জানিয়েছে হলিউড রিপোর্টার।

প্রথম কিস্তির মতো সিনেমাটির গল্প লিখবেন জো রুশো। প্রযোজনায় তার সঙ্গে থাকছেন ভাই অ্যান্থনি রুশো।

২৪ এপ্রিল ‘এক্সট্র্যাকশন’ নেটফ্লিক্সে মুক্তি পায়। সম্প্রতি এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ওটিটি প্ল্যাটফর্মের ভিউয়ার রেকর্ড ভাঙতে যাচ্ছে সিনেমাটি। ধারণা করা হচ্ছে চার সপ্তাহের মধ্যে ৯ কোটি অ্যাকাউন্ট থেকে দেখা হবে ‘এক্সট্র্যাকশন’।

অবশ্য নেটফ্লিক্স রেটিং ডেটা প্রকাশ করে না। দুই মিনিট কেউ কোনো একটি কনটেন্টে থাকলে পুরো ভিউ ধরা হয়।

তবে প্রথম কিস্তির পরিচালক স্যাম হারগ্রেভ থাকছে কি-না জানা যায়নি। ‘এক্সট্র্যাকশন’-এর ঢাকার এক কিশোর সন্ত্রাসীর হাতে গুলির আঘাতে বুড়িগঙ্গায় পড়ে যেতে দেখা যায় নায়ক ক্রিস হেমসওয়র্থকে। দর্শকদের প্রশ্ন- তাহলে কি ক্রিস বেঁচে আছে?

আরও অভিনয় করেছিলেন রণদীপ হুদা, প্রিয়াংশু পেইনউলি, পঙ্কজ ত্রিপাঠী, ডেভিড হারবার ও গুলশিফতেহ ফারাহানি।

ভারত-বাংলাদেশের দুই ড্রাগলর্ডের লড়াই নিয়ে এই সিনেমার কাহিনি আবর্তিত। পর্দায় দেখানো বেশির ভাগ দৃশ্য ঢাকার শহরের বলা হলেও বিশ্বাসযোগ্যভাবে উঠে আসেনি বলে অভিযোগ।

তরুণ এক ড্রাগলর্ডের কথায় ঢাকার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও মিলিটারি যেভাবে তৎপরতা দেখায়- তাকে দেশের জন্য অপমানজনক ও বাস্তবতা বিবর্জিত হিসেবে চিহ্নিত করেছেন দর্শকেরা। শিশুদের সন্ত্রাসী হিসেবে চিত্রায়ন ও অন্য কিছু বিষয়কে আফ্রিকার সন্ত্রাস উপদ্রূত এলাকার সঙ্গে তুলনা করছেন। যা কোনোভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়।

পাশাপাশি ঢাকার চরিত্রদের উচ্চারণ নিয়ে কথা উঠেছে। সব মিলিয়ে প্রোডাকশন ডিজাইনে ঢাকা নিয়ে পর্যাপ্ত গবেষণার অভাব ফুটে উঠেছে।

সাড়ে ৬ কোটি ডলার বাজেটের সিনেমাটির মূল দৃশ্যায়ন হয়েছে ভারত ও থাইল্যান্ডে। ঢাকার কিছু দৃশ্য আলাদাভাবে ধারণ করে পরে জুড়ে দেওয়া হয়।

জো রুশো গল্পটি লিখেছিলেন প্যারাগুয়ের প্রেক্ষাপটে এক দশক আগে। গল্পটি ভারত-বাংলাদেশে এনে ফেলা হয়েছে একটি বিশেষ কারণে। নেটফ্লিক্স এখন প্রবলভাবে ভারত-কেন্দ্রিক কনটেন্ট তৈরিতে আগ্রহী। কারণ বিগত আর্থিক বছরে সেখানে নেটফ্লিক্স যতটা আয় করবে ভেবেছিল, তার দ্বিগুণেরও বেশি ব্যবসা ইতিমধ্যেই করে ফেলেছে। তাই গল্পের প্রেক্ষাপট বদলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশ ও বাংলা কানেকশন রেখেছেন জো এবং অ্যান্থনি রুশো।

ঢাকায় ধারণ করা দৃশ্যের সঙ্গে যুক্ত ছিল অভিনেতা তারিক আনাম খানের প্রতিষ্ঠান। ভাষাগত পরামর্শক হিসেবে ছিলেন ওয়াহিদ ইবনে রেজা।