সাভারে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে আরও ৮ পোশাক শ্রমিক করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত উপজেলায় মোট করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৪ জন। যার মধ্যে ২০ জনই বিভিন্ন তৈরী পোশাক কারখানার শ্রমিক বলে জানিয়েছে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়েমুল হুদা।
সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সায়েমুল হুদা মঙ্গলবার বিকেল পাঁচটায় তার নিজস্ব ফেইসবুকে এ সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ করেছেন।
সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ৫ মে মঙ্গলবার পর্যন্ত সাভার উপজেলায় সর্বমোট নমুনা পরীক্ষা করা হয় ৬১৭ জনের। এর মধ্যে করোনা পজেটিভ এসেছে ৪৪ জনের। ৫ জন সুস্থ্য হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। করোনায় আক্রান্ত ৪৪ জনের মধ্যে ২০ জন বিভিন্ন তৈরী পোশাক কারখানার শ্রমিক, একজন চিকিৎসক, একজন এমএলএসএস একজন ইন্টার্ন ম্যাটস, একজন জেলে, একজন সবজি বিক্রেতা, একজন মুদি দোকানী এবং বাকীরা সাধারণ নাগরিক।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আল্লাহর অশেষ কৃপায় এবং আপনাদের সকলের সহযোগিতায় সাভার উপজেলায় করোনা বিস্তার তুলনামূলকভাবে কম রয়েছে। করোনা মোকাবিলায় সাফল্যের এ ধারাকে অব্যাহত রাখতে সকলের সর্বাত্মক সহযোগিতা কামনা করেছেন। এজন্য তিনি সবাইকে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে ঘরে থাকার পরামর্শ দেন, আতঙ্কিত না হয়ে এবং কোন গুজবে কান না দিয়ে যে কোন প্রয়োজনে প্রশাসনের দারস্থ হওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া গুজবে অংশগ্রহনকারীদের বিরুদ্ধে প্রশাসণ বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও জানান।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ৩০ এপ্রিল করোনাভাইরাসজণিত সংকটময় পরিস্থিতিতে গার্মেন্টস খোলা না রাখা এবং সাভার উপজেলার প্রবেশপথগুলো লকডাউন করার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর একটি আবেদন করেন। এরপর একদিনে সাত পোশাক শ্রমিক করোনায় আক্রান্তের ঘটনায় নড়েচড়ে বসে উপজেলা প্রশাসন। এছাড়া দিন দিন করোনায় পোশাক শ্রমিক আক্রান্তের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় গত শনিবার দুপুরে সাভার উপজেলা পরিষদ ভবনের হল রুমে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে এই জরুরি বৈঠক করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজুর রহমান। ওই বৈঠক থেকে সাভারে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে রবিবার থেকে তৈরী পোশাক কারখানাগুলোকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনার ঘোষণা দেওয়া হয়। এছাড়া কারখানা কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই সরকার বা বিজিএমইএর নির্দেশনা মোতাবেক কারখানা পরিচালনা, শ্রমিকদেরকে দিয়ে স্বাস্থ্যবিধি মেনে উৎপাদন করা না হলেই ব্যবস্থা গ্রহনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।