করোনাভাইরাসের কারণে বৈশ্বিক যে দুরবস্থার সৃষ্টি হয়েছে এর জন্য চীনের ক্ষমতাসীনরা দায়ী এমনটাই বলতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি পেইচিংকে দোষারোপ করে যাচ্ছেন। ভাইরাসটি উহানের ল্যাবেই সৃষ্টি, এমন দাবি ট্রাম্পের। এমন অভিযোগের ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যকার সম্পর্কে নতুন করে টানাপড়েন তৈরি হচ্ছে বলে দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা বলছেন, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কথা পেইচিং অনেক দেরি করে স্বীকার করেছে। ভাইরাসটি যখন প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে তখনই পেইচিং এর খবর প্রকাশ করেছে বলেও তাদের দাবি। যদিও চীন কর্র্তৃপক্ষ এমন অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। গত সোমবার সকালে যুক্তরাষ্ট্রের ডেপুটি জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ম্যাথিউ পটিংগার পেইচিংকে সতর্ক করে জানান, ‘সরকার যখন সামান্য সাহসী কাজকেও প্রকাশ করে, তখন বড় ঘটনাগুলোও প্রকাশ করা উচিত। জাতীয়তাবাদ থেকে আজ চীন লাভবান হচ্ছে। কিন্তু গণতান্ত্রিক সরকার উঁচু থেকে নিচু সবার ভালোর জন্য কাজ করে।’ বৈশ্বিক করোনা পরিস্থিতি চীনের কমিউনিস্ট শাসিত সরকারকে চ্যালেঞ্জ করে, এমনটাও বলেন তিনি।
পরমাণু শক্তিধর দুটি দেশের মুখোমুখি হওয়া সম্ভাব্য দুটি বাস্তবতা সামনে নিয়ে আসতে পারে। এর একটি দক্ষিণ চীন সাগর। ওই সাগরে য্ক্তুরাষ্ট্রের নৌবাহিনী বিনা বাধায় টহল দেয়। গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের একটি ডেস্ট্রয়ার চীনের আঞ্চলিক সীমানাকে চ্যালেঞ্জ করে সীমানায় প্রবেশ করে। এ নিয়ে দুই দেশের প্রশাসনে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। এদিকে একই সময় চীন সরকার তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে আকাশ ও নৌপথে নিরাপত্তা জোরদার করেছে। যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ান ইস্যুতে শুরু থেকেই কৌশলী ভূমিকা পালন করছে। তবে এই কৌশলগত অবস্থান নিয়েও অভ্যন্তরীণ ও বহির্দেশীয় চাপে আছে যুক্তরাষ্ট্র।
ওয়াশিংটন ও পেইচিং উভয়েই সামরিক শক্তি প্রয়োগ নিয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যক্তিগত খায়েশ ও শি চিনপিংয়ের প্রশাসন কেউই চায় না, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে। কিন্তু ট্রাম্পের সামনে যেহেতু নভেম্বরের জাতীয় নির্বাচন রয়েছে, সেক্ষেত্রে যুদ্ধাবস্থার সুবিধা তিনি নিতে চাইবেন এমনটা মনে করছেন বিশ্লেষকরা। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও দাবি করছেন যে, সার্স-কভ-২ ভাইরাসটির উৎপত্তি উহানের গবেষণাগারে। তবে এই দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ এখনো প্রকাশ করতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন। অধিকাংশ গবেষকই ট্রাম্প প্রশাসনের এমন দাবির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন। এমনকি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও বলছে, ভাইরাসটি গবেষণাজাত এমন কোনো প্রমাণ তারা পায়নি।
পেইচিং প্রশাসনের বিরুদ্ধে সামনের মাসগুলোতে ট্রাম্প প্রশাসন আরও কঠোর অবস্থান নিতে যাচ্ছে। এই অবস্থানের মধ্যে কূটনীতিক ও অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা হতে পারে। ট্রাম্প ইতিমধ্যেই চীনের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধ জারির ঘোষণা দিয়েছেন। চীনের আর্থিক নেটওয়ার্ক বন্ধ করতেই ট্রাম্প প্রশাসন এমন উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেল্ট অ্যান্ড রোডবিষয়ক গবেষকরা। তবে শি চিনপিং এমন হুমকি কতটা গুরুত্বের সঙ্গে মোকাবিলা করেন এখন তাই দেখার বিষয়। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও আরও কয়েকটি রাষ্ট্র করোনাভাইরাস নিয়ে চীনের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে।