সহযোগিতার নামে ধর্ষণে গৃহবধূ অন্তঃসত্ত্বা, ইউপি মেম্বার আটক

স্থানীয় ইউপি সদস্যের কাছে জেলে থাকা স্বামীর জামিনের সহযোগিতা চাইতে গিয়ে গৃহবধূ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। কুমিল্লা মুরাদনগরের এই ঘটনায় ইউপি সদসকে আটক করেছে পুলিশ।

আটক ইউপি সদস্য নজরুল ইসলাম ওরফে ভোলা মিয়াকে (৪২) মঙ্গলবার বিকেলে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

তিনি মুরাদনগর সদর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের সদস্য ও ডুমুরিয়া গ্রামের মৃত জায়েদ প্রধানের ছেলে।

এ ঘটনায় ওই ইউপি সদস্যসহ ৬ ধর্ষকের বিরুদ্ধে মামলা মুরাদনগর থানায় মামলা করা হয়েছে।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ধর্ষণের শিকার ওই গৃহবধূর স্বামী ২০১৯ সালের ১৪ নভেম্বর একটি মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে জেলে যায়। স্বামীকে ছাড়িয়ে আনতে স্থানীয় মেম্বার নজরুল ইসলাম ওরফে ভোলা মিয়ার সাথে যোগাযোগ করে সহযোগিতা চান ওই গৃহবধূ।

মেম্বার সর্বাত্মক সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়ে তাকে কৌশলে ধর্ষণ করেন। এ ঘটনা কাউকে জানালে তার বড় ধরনের ক্ষতি হবে এমন হুমকিতে গৃহবধূ বিষয়টি চাপা রাখে।

কয়েকদিন পর ওই ইউপি মেম্বার তার সহযোগীদের নিয়ে গৃহবধূকে আবারো ধর্ষণ করে। মেম্বারের সাথে আরো ৫ সহযোগী গৃহবধূকে হুমকি দিয়ে ধর্ষণ করে।

এ ঘটনায় ওই গৃহবধূ অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে। স্থানীয়রা বিভিন্নভাবে তার কাছ থেকে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি ধর্ষকদের ভয়ে নাম প্রকাশ করেনি। সাড়ে ৩ মাস পর জেল থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়ি আসলে স্বামীর কাছে সবকিছু খুলে বলে ঘটনার শিকার ওই গৃহবধূ।

ভুক্তভোগীর স্বামী বলেন, আমি জেলে থাকা অবস্থায় আমাকে ছাড়িয়ে আনতে সব রকমের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়ে ভোলা মেম্বার কৌশলে আমার স্ত্রীকে ধর্ষণ করে। মেম্বারের ঘটনাটিকে পুঁজি করে তার আরো ৫ সহযোগী আমার স্ত্রীকে ধর্ষণ করলে সে গর্ভবর্তী হয়ে পড়ে। আমি জেল থেকে ছাড়া পেয়ে বাড়ি এসে আমার স্ত্রীর কাছ থেকে এসব ঘটনা জানতে পারি।

এ বিষয়ে মেম্বারের সাথে কথা বললে বিষয়টি তিনি ধামাচাপা দিতে বলেন, অন্যথায় আমাদেরকে গ্রামছাড়া করবেন বলে হুমকি দেয়।

গত দু’মাস ধরে বিভিন্ন মহল বিষয়টি সমাধান করার আশ্বাস দিয়ে আমাকে চাপে রাখে। অবশেষে গ্রামবাসীর মধ্যে জানাজানি হয়ে গেলে নিরুপায় হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছি। পুলিশ রবিবার সন্ধ্যায় নাগেরকান্দি চৌরাস্তা থেকে ওই মেম্বারকে আটক করে।

মুরাদনগর থানার ওসি একেএম মনজুর আলম বলেন, এ ঘটনায় ৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মেম্বার নজরুল ইসলাম ওরফে ভোলা মিয়াকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ করেছি। উক্ত ঘটনায় অভিযান অব্যাহত রয়েছে।