‘ধর্ষণের পর স্কুলছাত্রীকে গলাটিপে মৃত্যু নিশ্চিত করে যুবক’

পঞ্চম শ্রেণি পড়ূয়া ছাত্রী প্রতিদিনের মতো সকাল পৌনে ৮টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে মান্দারতলা গ্রাম হয়ে নয়াপাড়া গ্রামে তালেব আলী মাস্টারের বাড়িতে প্রাইভেট পড়তে যায়। কিন্তু প্রাইভেট শেষে তার আর বাড়ি ফেরা হলো না। ফেরার পথে সুলতান মিয়ার (২৬) লালসার শিকার হয়ে প্রাণ দেয় নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলায় রায়পুর ইউনিয়নের লামাপাড়া গ্রামের আব্দুল মান্নাফের মেয়ে মনি আক্তার খানম (১১)।

সুলতান মান্দারতলা গ্রামের মৃত আ. রশিদের ছেলে।

ঘটনার আগে থেকে সুলতান ছাত্রীটি আসা-যাওয়ার সময়ের দিকে প্রায়ই লক্ষ্য রাখতেন। ঘটনার দিন সকাল ১০টার দিকে প্রাইভেট শেষে বাড়িতে ফেরার পথে সুলতান ছাত্রীকে ডেকে সুকৌশলে তার ঘরে নিয়ে আসে।

এ সময় ঘরে ঘাতকের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী বাবার বাড়িতে থাকায় ফাঁকা ঘরে মনিকে কু-প্রস্তাব দেয়। এতে মনি রাজি না হলে খাটের উপরে ফেলে পায়ুপথে ধর্ষণ করে এবং ঘটনাটি জানাজানির ভয়ে গলাটিপে হত্যা করে খাটের উপর ওড়না দিয়ে ঢেকে রাখে সুলতান।

ওইদিন রাতের আঁধারে নিহতের হাত ও পা প্লাস্টিকের সুতলি এবং মুখ ওড়না দিয়ে বেঁধে নিজ বাড়ির অদূরে জঙ্গলে মধ্যে গর্তে রেখে আসে।

পরে ঘাতক বাড়িতে এসে হাত মুখ ধুয়ে রাতের খাবার খেয়ে আত্মগোপন করে। এমনই লোমহর্ষক ঘটনার বর্ণনা দিলেন তথ্য উদঘাটনে নেতৃত্বদানকারী নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) এসএম আশরাফুল আলম।

গত মঙ্গলবার বিকেলে নেত্রকোনা পুলিশ সুপার কনফারেন্স কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার আকবর আলী মুনসী বলেন, তথ্য প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে ঘটনার ৫ দিনের মধ্যে বারহাট্টা উপজেলার বাউসী এলাকায় ঘাতকের শ্বশুরবাড়িতে অভিযান চালিয়ে সুলতানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে ঘাতক ঘটনার বিবরণ দিয়ে নিজেই এর দায় স্বীকার করেছে।

পুলিশ সুপার আরও জানান, যে সকল তথ্য উপাত্ত পেয়েছি তা প্রমাণ হিসেবে আদালতে প্রেরণ করা হবে। ফরেনসিক রিপোর্ট এবং জবানবন্দী অনুযায়ীই এমন লোমহর্ষক ঘটনার সাজা নিশ্চিত করা যায়। এ সময় পুলিশের প্রতি সকল মানুষকে আস্থা রাখার জন্য অনুরোধ জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত ৩০ এপ্রিল বৃহস্পতিবার সকালে মনি আক্তার প্রাইভেট পড়া শেষে তালেব মাস্টারের বাড়ি থেকে বের হয়। ওই দিন যথাসময়ে বাড়িতে না ফেরায় পরিবার ও স্বজনেরা খোঁজাখুঁজি করে এলাকায় নিখোঁজের মাইকিং করে।

পরদিন শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে মান্দারতলা গ্রামের জব্বর মিয়ার জঙ্গলের মধ্যে গর্তে মনি আক্তারের লাশ দেখতে পায় স্থানীয়রা।

পরে পুলিশ ১২টার দিকে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোনা আধুনিক সদর হাসপাতালে প্রেরণ করে। নিহতের বাবার গত ২ মে শনিবার নেত্রকোনার বারহাট্টা থানায় মামলা দায়ের করেন।