রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য দিদারুল ভূঁইয়াকে ইফতারের ঠিক আগমুহূর্তে দ্রুততার সঙ্গে র্যাব পরিচয় দিয়ে একদল লোক তুলে নিয়ে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী দিলশান আরা (অপর্ণা)।
বুধবার রাষ্ট্রচিন্তা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অপর্ণা বলেন, আমার একটাই প্রশ্ন, ও ক্রিমিনাল না, ইফতার করতে না দিয়ে কেন নিয়ে যাওয়া হলো? ওর সঙ্গে আমরাও দুই দিনের রোজায় আছি।
তিনি বলেন, ইফতারের কিছু আগে র্যাব পরিচয় দিয়ে একদল লোক দুটো মাইক্রোবাসে করে আসে। তারা কিছু বলতেই দেয়নি। এসেই সব সরঞ্জাম নিয়ে যায়। পরে বলে, কথাবার্তা বলে ছেড়ে দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার উত্তর বাড্ডার বাসা থেকে দিদারুল ভূঁইয়াকে তুলে নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়।
রাষ্ট্রচিন্তার সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দিদারুল ভূঁইয়াসহ আরও বেশ কয়েকজনকে তুলে নিয়ে যাওয়া ‘ভয়াবহ’ পরিস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। জনগণের অর্থে চলা জনগণের বাহিনীকে তাদেরই বিরুদ্ধে ব্যবহারের ফল শুভ হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী হাসনাত কাইয়ূম বলেন, ঘটনার পরপর রাষ্ট্রচিন্তা র্যাব-৩–এ যায়। সেখান থেকে বলা হয়, দিদারুল র্যাব-১–এ আছেন। সেখানে যোগাযোগের পরও র্যাবের কাছ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
হাসনাত কাইয়ূম বলেন, পরিবারের সদস্যরা রাতেই বাড্ডা থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে যান। সেখানে তারা পুলিশি অসহযোগিতার মুখে পড়েন। শেষ পর্যন্ত পুলিশ যেভাবে বলে, সেভাবে তারা ঘটনার বিবরণ লিখতে বাধ্য হন। তারা লেখেন দিদারুল বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর ফেরেননি।
বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে দিদারুল এমন কোনো কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন না, যা অপরাধ বলে গণ্য হতে পারে বলেও দাবি করেন হাসনাত কাইয়ূম।
লিখিত বক্তব্যে রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য রাখাল রাহা বলেন, দিদারুল ভূইয়া কুড়িগ্রাম, দিনাজপুরে ত্রাণের বিষয়ে একটি পোস্ট দিয়েছিলেন। ওই পোস্ট বিভিন্ন গ্রুপে শেয়ার হয়। পরে কয়েকটি গ্রুপ থেকে ওই পোস্টগুলো মুছে ফেলা হয়। আশঙ্কা করা হচ্ছে, সে কারণেই তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে দিদারুলকে।
প্রসঙ্গত, ফেইসবুকে সরকারবিরোধী পোস্ট দেওয়ায় কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর ও লেখক মুশতাক আহমেদকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রমনা থানায় গ্রেপ্তার দেখানোর আগে তাদেরকে রাজধানীর কাকরাইল ও লালমাটিয়া থেকে আটক করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
কার্টুনিস্ট কিশোর তার ‘আমি কিশোর’ ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে দেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে সরকারের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন সমালোচনামূলক কার্টুন-পোস্টার পোস্ট করতেন। মুশতাক তার ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে কিশোরের সেসব পোস্টের কয়েকটি শেয়ার করেছিলেন।