কাশ্মীরে শীর্ষ যোদ্ধাকে হত্যা করল ভারতীয় বাহিনী

ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে এক শীর্ষ স্বাধীনতাকামী নেতাকে হত্যা করেছে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। স্বাধীনতাকামী হিজবুল মুজাহিদিনের নেতা রিয়াজ নাইকু তরুণদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় ছিলেন। 

বিবিসি জানায়, রিয়াজ নাইকু কাশ্মীরের হিজবুলের আরেক প্রভাবশালী নেতা বুরহান ওয়ানির ঘনিষ্ট সহযোগী ছিলেন। ২০১৬ সালে বুরহানকেও এক অভিযানে হত্যা করে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। 

ওয়ানিকে হত্যার ঘটনা কাশ্মীরকে ভয়াবহ উত্তপ্ত করে তুলেছিল। এরপর ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলাও বেড়ে যায়। গত বছর পুলওয়ামা হামলায় ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর ৪০ জন সদস্য নিহত হয়েছিল। 

বুরহান হানি নিহতের পর হিজবুলের নেতৃত্বে আসেন ইয়াসিন ইতু। তিনিও ভারতীয় বাহিনীর হাতে নিহত হলে হিজবুলের দায়িত্ব নেন রিয়াজ নাইকু। তিনি পুলওয়ামার বেগ পোরা এলাকার বাসিন্দা। মঙ্গলবার সেখানে অভিযান চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। তার দুই সহযোগীও এই অভিযানে নিহত হয়। 

স্থানীয় বাসিন্দারা জানায়, আট বছর ধরে ঘরছাড়া ছিলেন রিয়াজ। তাকে ধরতে নিজ এলাকায় ফাঁদ পাতে ভারতীয় সেনা, আধাসেনা এবং পুলিশ বাহিনী। অভিযান চালাতে বন্ধ করে দেয়া হয় কাশ্মীরের ১০টি জেলার মোবাইল ও ইন্টারনেট সংযোগ।

বিবিসি উর্দুকে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর এ শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, চলতি বছরে জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত রিয়াজসহ ৭৬জন কাশ্মীরি যোদ্ধা নিহত হয়েছে। সেনাবাহিনী ও পুলিশের শীর্ষ কয়েকজন কর্মকর্তাসহ আমরা ২০ জনকে হারিয়েছি। 

জানা যায়, পুলওয়ামা কলেজ থেকে স্নাতক পাশ করে স্কুলে গণিতের শিক্ষকতা করতেন রিয়াজ নাইকু। তিনি প্রযুক্তির ব্যবহারে ছিলেন বেশ পারদর্শী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। ২০১০ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে হিজবুল মুজাহিদিনে যোগ দেন তিনি।।