জামালপুরের নকশিকাঁথা, শাড়ি, সালোয়ার-কামিজ, পাঞ্জাবিসহ বিভিন্ন নকশিপণ্যের সুনাম রয়েছে দেশের গ-ি পেরিয়ে বিদেশেও। ঢাকাসহ বড় বড় শহরের নকশিপণ্যের চাহিদার সিংহভাগই পূরণ করেন জেলার নকশিপণ্যের উদ্যোক্তারা। ক্রেতা-বিক্রেতাদের সুবিধার জন্য কয়েক মাস আগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখানে চালু করা হয়েছিল নকশিপণ্যের সাপ্তাহিক হাটও।
প্রতি বছর ঈদের আগে নকশিপণ্যের বিপুল চাহিদা মেটাতে রমজান মাসে দিনরাত ব্যস্ত থাকেন জেলার সুচিশিল্পী ও উদ্যোক্তারা। কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন। লকডাউনে পড়ে উৎপাদিত পণ্য বিক্রি ও সরবরাহ করতে না পেরে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছেন উদ্যোক্তারা। আয় না থাকায় পরিশোধ করতে পারছেন না কর্মীদের মজুরিও। ফলে চরম কষ্টে আছেন এ শিল্পে জড়িত জেলার প্রায় ৪ লাখ নারী কর্মী ও ২ হাজারের বেশি উদ্যোক্তা।
উদ্যোক্তারা জানান, পয়লা বৈশাখ ও ঈদুল ফিতরের সময় নকশিপণ্যের সবচেয়ে বেশি চাহিদা থাকে। কিন্তু লকডাউনের কারণে মার্চের শেষ সপ্তাহ থেকে বন্ধ হয়ে যায় সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। বড় বড় শহরের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদিত পণ্য সরবরাহও থেমে যায়। উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে না পারায় সুচিকর্মীদের মজুরি পরিশোধ করতে পারছেন না তারা। ফলে চরম কষ্টে পড়েছেন নিম্ন আয়ের নকশিশিল্পীরা। ঈদের আগে এই সময়ে বাড়তি আয় দূরে থাক তিন বেলা খাবার জোগাড়ই তাদের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শহরের বকুলতলার এক উদ্যোক্তার অধীনে কাজ করা সুচিকর্মী শিউলি বলেন, ‘এই সময়ে দিনরাইত কাম কইরাও কাম শেষ করবার পাইনে। কিন্তু এইবার কামই নাই। আগের কাম যেইগুলা কইরা রাখছি, বেচা নাই দেইখ্যা মালিকে সেইগুলাও নিতাছে না। এহন আমগরে সংসারই ঠিকমতো চলতাছে না।’
শহরের সকাল বাজার এলাকার উদ্যোক্তা আহসান লিটন বলেন, ‘পয়লা বৈশাখ ও ঈদের জন্য যেসব পণ্য তৈরি করা হয়েছিল, সেগুলো এখন পড়ে থেকে নষ্ট হওয়ার উপক্রম। কর্মীদের কাছে যেসব পণ্য সেলাই হয়ে আছে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আর্থিক সংকটে পড়ে সেগুলো আনা যাচ্ছে না। ফলে উদ্যোক্তারা যেমন কষ্টে আছেন, তেমনি কষ্টে আছেন কর্মীরাও।’
বগাবাইদ এলাকার উদ্যোক্তা আজিমুন্নাহার শেলী জানান, লকডাউনে পড়ে ক্রেতারা আসতে না পারায় মালামাল সব আটকে আছে। অনলাইনে কিছু খুচরা বিক্রি হলেও পাইকারি বিক্রি একেবারেই বন্ধ।
জামালপুর হস্তশিল্প সমিতির যুগ্ম আহ্বায়ক ও জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত উদ্যোক্তা দেলোয়ারা বেগম জানান, জেলায় নকশিশিল্পে প্রায় চার লাখ নারী কর্মী জড়িত। ঢাকাসহ দেশের বড় বড় শহরের পাইকারি ক্রেতারা এখানকার নকশিপণ্যের ৯৫ শতাংশ কিনে নেন। কিন্তু ইতিমধ্যে পাইকারি বিক্রির সময় চলে যাওয়ায় সরকার ১০ তারিখ থেকে সীমিত পরিসরে মার্কেট, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার ঘোষণা দিলেও তা নকশিপণ্যের উদ্যোক্তাদের কাজে আসবে না। স্থানীয় সরকার বিভাগ জামালপুরের উপপরিচালক কবির উদ্দিন আহাম্মেদ জানান, এ শিল্পের উদ্যোক্তাদের অনলাইনে ব্যবসায়ের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। প্রণোদনার বিষয়ে সরকারি নির্দেশনা পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর দরিদ্র সুচিকর্মীদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হচ্ছে।