ভ্যাকসিনের ‘আরও কাছে’ চীন, বিশ্বজুড়ে ট্রায়ালের পরিকল্পনা

প্রথম দুই ধাপের হিউম্যান ট্রায়াল শেষ করে তৃতীয় ধাপের প্রস্তুতি নিচ্ছে চীনের ভ্যাকসিন কোম্পানি সিনোভাক বায়োটেক। বেইজিং-ভিত্তিক কোম্পানিটি জানিয়েছে, বিশ্বের যেসব দেশে করোনাভাইরাস এখনো দ্রুত ছড়াচ্ছে সেখানে তৃতীয় ধাপের ট্রায়াল দিতে চায় তারা।

সিনোভাকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়িন ওয়েডং নিউইয়র্ক-ভিত্তিক বিশ্বখ্যাত সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গকে জানিয়েছেন, বিশ্বের অন্য দেশে ট্রায়াল দিতে তারা সহযোগী প্রতিষ্ঠান এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে কথা বলছেন।

‘আমরা ভ্যাকসিন পাওয়ার কাছে চলে এসেছি। কোনো দেশ ট্রায়ালের অনুমতি দিলে আমরা শুরু করবো।’

চীনে ভাইরাসটি নিয়ন্ত্রণে আসায় দেশটির ভ্যাকসিন প্রস্ততকারক কোম্পানির বাইরের দেশে ট্রায়াল দেয়াটা জরুরি হয়ে পড়েছে। কারণ সংক্রমণ কম থাকলে ভ্যাকসিনে কারা সুরক্ষিত থাকছেন, সেটি বোঝা কঠিন।

চীনে হিউম্যান ট্রায়ালে আছে মোট চারটি কোম্পানি। চাইনিজ সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় অন্য তিনটির একটি তৈরি করছে তিয়ানজিন-ভিত্তিক ক্যানসিনো বায়োলজিক্স। বাকি দুটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ন্যাশনাল বায়োটেক গ্রুপ থেকে। এর মধ্যে ক্যানসিনো বায়োলজিক্স গত এপ্রিলে দ্বিতীয় ধাপের ট্রায়াল শুরু করে।

চীনের সিনোভাকের মতো ক্যানসিনোও বিশ্বজুড়ে ট্রায়াল দিতে চায়। তারা কানাডায় চেষ্টা করছে।

আমেরিকায়  মোট ১২টির বেশি কোম্পানি ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা করছে। সরকারিভাবে মর্ডানাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। বাকিগুলোর মধ্যে দেশটির ফাইজার তৈরি করছে যৌথভাবে, জার্মানির বায়োএনটেক কোম্পানির সঙ্গে।

ব্রিটেনের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি তৈরি করেছে চাডক্স১ এনকভ-১৯ ভ্যাকসিন। সেখানকার বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, সেপ্টেম্বরের ভেতর তাদের ভ্যাকসিন তৈরি হয়ে যাবে।

এমন আলোচনার ভেতর ৪ মে ইতালি দাবি করে তারা কার্যকরী ভ্যাকসিন পেয়ে গেছে। রোমের স্পালানজানি হাসপাতালে ভ্যাকসিনটির পরীক্ষা হয়েছে বলে দেশটির শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনএসএ’র প্রতিবেদনে জানানো হয়।

গোটা বিশ্বে সব মিলিয়ে শতাধিক কোম্পানি ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা করছে। এর মধ্যে ১০টি তৃতীয় ধাপের ট্রায়ালের অপেক্ষায় আছে।

ভাইরাস প্রতিরোধে ভ্যাকসিনের বিকল্প নেই। কিন্তু তৈরি করতে কয়েক বছর সময় লেগে যায়। এইচআইভির মতো অনেক রোগের আবার ভ্যাকসিন এখনো তৈরি সম্ভবও হয়নি।

প্রথম দুই ধাপের চেয়ে তৃতীয় ধাপের ট্রায়াল বেশি জটিল উল্লেখ করে চীনা গবেষক ডিং শেং বলেন, ‘এই ধাপেই মূল চ্যালেঞ্জ । প্রথম দুই ধাপে যে সফলতা পাওয়া গেছে, অর্থাৎ অংশগ্রহণকারীর শরীরে যে ইমিউন সিস্টেম তৈরি হয়েছে, সেটি ঠিক মতো কাজ করছে কি না, এই ধাপে বোঝা যাবে।’

করোনার প্রায় সম-গোত্রীয় সার্স ভাইরাস ২০০৩ সালে যখন মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়েছিল, তখন এই সিনোভাক ভ্যাকসিন তৈরি করেছিল। কিন্তু সেসময় ৮ হাজার মানুষ মারা যাওয়ার পর রোগটি নিয়ন্ত্রণে আসায় প্রথম ধাপে তারা ট্রায়াল শেষ করে দেয়।

নতুন ভ্যাকসিন অধিকাংশ সময় প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল দেয় না। এক্ষেত্রে সেটি হলে পুরো প্রক্রিয়া নতুন করে সাজানো হতে পারে। ডোজের মাত্রা পাল্টানো হতে পারে। অথবা প্রোগ্রাম বন্ধ করা হতে পারে।