সপ্তম শ্রেণির বাংলা প্রথম পত্র

অমর একুশে : আবুবকর সিদ্দিক

সৃজনশীল প্রশ্ন

১. ইশতিয়াক বৃত্তি নিয়ে জাপানে পড়ালেখা করতে চলে যাওয়ায় এবারের শহীদ দিবস উদযাপন করতে পারেনি। অথচ প্রতি বছর সে প্রভাতফেরিতে অংশগ্রহণ করত বক্তৃতা, আবৃত্তি, আলোচনা শুনত, সে কথা মনে করে তার চোখ জলে ভরে আসে। মনে মনে অনেক কিছু করার পরিকল্পনা করেছিল। অবশেষে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও তার ইতিহাস সহপাঠীদের কাছে তুলে ধরে ইশতিয়াক।

ক. লখা রাতে কোথায় ঘুমায়?

উত্তর : লখা রাতে ফুটপাতের কঠিন শানের ওপর ঘুমায়।

খ. ‘জিতে গেছি আমি। গর্বে বুক ফুলে ওঠে লখার।’ কথাটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?

উত্তর : ‘জিতে গেছি আমি। গর্বে বুক ফুলে ওঠে লখার।’ কথাটি দ্বারা লখার ফুল সংগ্রহ করতে সমর্থ হওয়াকে বোঝানো হয়েছে।

আবুবকর সিদ্দিক রচিত ‘লখার একুশে’ গল্পের লখা একুশের প্রভাতে শহীদ মিনারে ভাষাশহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে চায়। তাই সে ভোর রাতে ঘুম থেকে উঠে উঁচু রেললাইন, মস্ত নিচু খাদ সাবধানে পেরিয়ে, পায়ে কাঁটা ঢোকার কষ্ট, ঠাণ্ডা-কাশি, খেঁকশিয়ালের ভয় উপেক্ষা করে নির্দিষ্ট ফুলগাছটির কাছে গিয়ে পৌঁছায়। তারপর কাঠবিড়ালির বাচ্চার মতো চড়চড় করে গাছে উঠে মগডাল থেকে এক থোকা টুকটুকে লাল ফুল পেড়ে নিয়ে যখন মাটিতে নেমে এলো, তখন দেখতে পেল তার সারা শরীর জ্বলে যাচ্ছে। কনুই ও বুকে চটচটে ঠাণ্ডা তাজা রক্ত। গাছের ডালপালার কাঁটার আঁচড়ে তার গা-হাত-পা ছিঁড়ে গেছে। কিন্তু তার পরও সে ফুল পাড়তে সমর্থ হয়েছে। তাই বিজয়ের আনন্দে লখা উপর্যুক্ত মন্তব্যটি করে।

গ. ‘লখা ও ইশতিয়াক দুজনের কাছে শহীদ দিবস ভিন্ন আঙ্গিকে এসেছে।’ ব্যাখ্যা করো।

উত্তর : লখা প্রত্যক্ষ ও ইশতিয়াক পরোক্ষভাবে শহীদদের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে বলে ‘ভিন্ন আঙ্গিক’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।

‘লখার একুশে’ গল্পের লখা বাক্প্রতিবন্ধী এক পথের কিশোর। পিতৃহীন লখা রাতে ফুটপাথের কঠিন শানে ঘুমায়। তার ভিখারি মা দিনভর ভিক্ষা করে আর তার দিন কাটে বন্ধুদের সঙ্গে মারামারি করে, কাগজ কুড়িয়ে, খাবারের দোকানের এঁটোপাতা চেটে। তারপরও এই লখার সাধ জাগে ভাষাশহীদদের আত্মার প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে। তাই শীতের তীব্রতা, মনের ভয় উপেক্ষা করে, উঁচু রেললাইন, মস্ত খাদ পেরিয়ে রাতের অন্ধকারে সে জঙ্গলের ভেতরের বড় গাছে উঠে এক থোকা রক্ত লাল ফুল সংগ্রহ করে। শত শত মানুষের ভিড়ের মধ্যে খুদে, টোকাই লখাকে আলাদাভাবে চেনা যাচ্ছিল, তার গাঢ় কালো উদাম শরীরটাকে দেখে। সবাই যখন গলা মিলিয়ে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি?’ গানটি গাইছিল, তখন বোবা বলে তার গলা দিয়ে শুধু আঁ আঁ আঁ আঁ শব্দ বের হচ্ছিল।

অন্যদিকে উদ্দীপকের ইশতিয়াক বিদেশে থাকার কারণে সশরীরে শহীদ মিনারে যেতে পারবে না বলে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস এবং তার ইতিহাস সহপাঠীদের কাছে তুলে ধরার পরিকল্পনা করে। উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, শহীদ দিবস লখা ও ইশতিয়াকের কাছে ভিন্ন আঙ্গিকে এসেছে।

ঘ. ‘ইশতিয়াকের শহীদ দিবস উদযাপনের আকাক্সক্ষা লখার শহীদ দিবস উদযাপনের আকাক্সক্ষারই প্রতিফলন।’ বিশ্লেষণ করো।

উত্তর : ভাষা আন্দোলনের অবিনাশী প্রভাবের জন্য ইশতিয়াকের শহীদ দিবস উদযাপনের আকাক্সক্ষা লখার শহীদ দিবস উদযাপনের আকাক্সক্ষারই প্রতিফলন বলে আমি মনে করি। ‘লখার একুশে’ গল্পের লখা অতিসাধারণ এক কিশোর। সে কথা বলতে পারে না, সারা দিন পথে পথে ঘোরে, মারামারি করে দিন কাটায়, রাতে ভিখারি মায়ের পাশে শুলে খিদের কথা ভুলে যায়। এই বোবা কিশোরের অন্তরেও দেশপ্রেম ছিল। তাই ভাষাশহীদদের প্রতি শহীদ মিনারে গিয়ে আর সবার মতো সে শ্রদ্ধা জানাতে চায়। সেজন্য অনেক কষ্টে ফুল সংগ্রহ করে কুয়াশা-ঢাকা শীতের ভোরে চাদর, কোট, সোয়েটার পরিহিত লোকের মিছিলের সঙ্গে সেও এগিয়ে যায়। তার খালি গা আর দেহের কালো রং দেখে তাকে সহজেই সবার থেকে আলাদা করা যাচ্ছিল। কিন্তু সব কিছুকে সে উপেক্ষা করে শহীদ মিনারের দিকে এগিয়ে যায় বোবা কণ্ঠে আঁ আঁ করতে করতে। উদ্দীপকের ইশতিয়াকও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্য পরোক্ষভাবে তার সহপাঠীদের কাছে তুলে ধরার পরিকল্পনা করে। উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, শহীদ দিবস উদযাপনের আকাক্সক্ষার প্রতিফলন উভয়ের মধ্যেই ঘটেছে।