ফেইস মাস্ক থেকে এক মাসে ১ হাজার ৫৯২ টন প্লাস্টিক বর্জ্য: এসডো

মহামারি ঠেকাতে প্রায় লকডাউনে বায়ু দূষণ কমলেও করোনাভাইরাস থেকে সুরক্ষা পেতে ব্যবহৃত নিরাপত্তা সরঞ্জাম থেকে তৈরি হওয়া প্লাস্টিক বর্জ্য বৃদ্ধি পেয়ে পরিবেশ দূষণের কারণ হচ্ছে বলে বাংলাদেশের এক জরিপে উঠে এসেছে।

রবিবার এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (এসডো) এই জরিপের কথা উল্লেখ করে এক ভার্চুয়াল আলোচনায় এ তথ্য জানানো হয়। তবে অন্য সময়ের তুলনায় বর্জ্যের পরিমাণ বেড়েছে কি না, তা তারা স্পষ্ট করেনি। 

জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশে গত এক মাসে একবার ব্যবহৃত দ্রব্য থেকে ১৪ হাজার ১৬৫ টন ক্ষতিকর প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদিত হয়েছে। এই বর্জ্যের ৩ হাজার ৭৬ টন উৎপন্ন হয়েছে শুধু ঢাকা শহরে।

করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে গত ২৬ মার্চ বাংলাদেশে লকডাউন শুরু হয়, সম্প্রতি কিছুটা শিথিল হলেও তা এখনও চলছে।

কিন্তু এই সময়ে ভাইরাস থেকে সুরক্ষায় বাসাবাড়ি ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকে তৈরি সার্জিকাল ফেইস মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস ও পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার বেড়েছে, তা প্লাস্টিক বর্জ্যের বড় উৎস।

ভার্চুয়াল আলোচনায় এসডোর জ্যেষ্ঠ প্রকল্প কর্মকর্তা সৈয়দা মেহরাবিন সেঁজুতি তাদের জরিপ প্রতিবেদন তুলে ধরে বলেন, এপ্রিল মাসে একবার ব্যবহৃত যে প্লাস্টিক বর্জ্য তৈরি হয়েছে, তার ১২ দশমিক ৭ শতাংশ হয়েছে সার্জিকাল ফেইস মাস্ক থেকে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, এই সময়ে প্রায় সাড়ে ৪৫ কোটি সার্জিকাল ফেইস মাস্ক ব্যবহার করা হয়েছে, যা থেকে অন্তত ১ হাজার ৫৯২ টন প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপাদিত হয়েছে। অন্য শহরের তুলনায় ঢাকা শহরেই এর পরিমাণ বেশি।

এছাড়া মোট বর্জ্যের ২৪ দশমিক ২ শতাংশ পলিথিনের তৈরি সাধারণ হ্যান্ড গ্লাভস থেকে, ২২ দশমিক ৬ শতাংশ সার্জিকাল হ্যান্ড গ্লাভস থেকে এবং ৪০ দশমিক ৮ শতাংশ খাদ্যদ্রব্য বহনে ব্যবহৃত পলিথিনের ব্যাগ থেকে হয়েছে ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গড়ে ৯ শতাংশ মানুষ সার্জিকাল হ্যান্ডগ্লাভস ব্যবহার করেন, যাদের অধিকাংশই ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের মতো শহরে বাস করেন। অন্যান্য জেলাতে পলিথিনের পাতলা হ্যান্ড গ্লাভস ব্যবহারের প্রবণতা বেশি।

ফেলে দেওয়া ১২১ কোটি ৬০ লাখ পলিথিনের হ্যান্ড গ্লাভস থেকে এক মাসে প্রায় তিন হাজার ৩৯ টন প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপন্ন হয়েছে। এর প্রায় ২০ শতাংশ শুধু ঢাকাতেই উৎপন্ন হয়েছে।

জরিপের তথ্য অনুযায়ী, সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে খাদ্যদ্রব্য ঢেকে কেনা-বেচা করা ও ত্রাণ বিতরণের কারণে পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার ব্যাপক হারে বেড়েছে।

সবচেয়ে বেশি প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপন্ন হয়েছে পলিথিনের ব্যাগ থেকেই। এক মাসে ১৪৪ কোটি ৯০ লাখ পলিথিনের ব্যাগ থেকে উৎপন্ন হয়েছে ৫ হাজার ৭৯৬ টন প্লাস্টিক বর্জ্য। এর মধ্যে শুধু ঢাকাতেই তৈরি হয়েছে প্রায় ৪৪৩ টন।

জরিপে বলা হয়েছে, চিকিৎসক, নার্সসহ অন্যান্য কর্মীরা নিয়মিতই একবার ব্যবহারযোগ্য মাস্ক, গ্লাভসসহ পিপিই ব্যবহার করায় হাসপাতালগুলোতেও প্লাস্টিক বর্জ্য বেড়েছে। এথেকে এক মাসে ২৫৮ টন প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপন্ন হয়েছে।

এছাড়া কোভিড-১৯ শনাক্তকরণের পরীক্ষাগারগুলো থেকে আরও ১ দশমিক ৪ টন একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বর্জ্য উৎপন্ন হয়েছে।

একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক পণ্য উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহারের সঙ্গে জড়িত ৫৭০ জন সাংবাদিক, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ, সেবা প্রদানকারী, এনজিওকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে অনলাইন ও টেলিফোন সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এই জরিপটি চালায় এসডো।