হাজার কিমি সাইকেল চালিয়ে বাড়ি ফেরার পথে গাড়ি চাপায় মৃত্যু

দীর্ঘ লকডাউনে ভারতের অনেক অভিবাসী শ্রমিক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। আবার কারো পরিণতি হয়েছে মর্মান্তিক।

সংবাদ প্রতিদিন জানায়, এবার হাঁটতে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে বা ঘুমন্ত অবস্থায় ট্রেনের চাপায় মৃত্যু নয়। গাড়ির চাকায় পিষে যান এক শ্রমিক। দুর্ঘটনাটি ঘটে লখনউতে। পরে মরদেহ বিহারের পূর্ব চম্পারণে পাঠানোর বন্দোবস্ত করা হয়।

বছর ছাব্বিশের সগীর আনসারী বিহারের পূর্ব চম্পারণের বাসিন্দা। স্ত্রী ও তিন সন্তান নিয়ে সংসার তার। একটু বেশি উপার্জনের আশায় দিল্লিতে কাজ করতেন যান তিনি। কিন্তু আচমকা লকডাউনে বিপাকে পড়েন। হাতে নেই টাকা, তাই মেলেনি খাবার। ওদিকে সংসারেও পাঠাতে পারছেন না এক পয়সা। তাই যে কোনো উপায়ে বাড়ি ফিরে যাওয়ার কথাই ভাবেন।

সেই অনুযায়ী ৫ মে দিল্লি থেকে সাইকেলে চড়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন আনসারী। পাড়ি দিতে হবে হাজার কিমি। সঙ্গে ছিলেন আরও সাতজন শ্রমিক। পাঁচদিন ধরে সাইকেল চালিয়ে অর্ধেক রাস্তা পৌঁছান তারা। লখনউতে পৌঁছনোর পর স্থির করেন একটু বিশ্রাম নেবেন। সেই অনুযায়ী রাস্তার পাশে সাইকেল রেখে খাবার খেতে শুরু করেন তারা।

ওই সময় আচমকা একটি গাড়ি দ্রুত গতিতে আনসারীর দিকে ছুটে আসে। চালক নিয়ন্ত্রণ হারায়। আনসারীকে পিষে বেরিয়ে গিয়ে একটি ডিভাইডারে ধাক্কা মারে গাড়িটি। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, দুর্ঘটনা ঘটেছে দেখেই চালক গাড়ি থেকে নেমে আসেন। আনসারীর সঙ্গীদের আর্থিক সাহায্য করতে রাজিও হন প্রথমে। তবে মুহূর্তের মধ্যে ভাবনায় বদল। আর্থিক সাহায্য করতে অস্বীকার করে অভিযুক্ত গাড়িচালক। ঘটনাস্থল ছেড়ে চলেও যায়।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে আনসারির দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠায়।