সবার হাতে বাঁশের বাংকুয়া, মাথাইল, কাস্তে আর পিঠে ব্যাগ। উত্তরের পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর, নীলফামারী ও রংপুর থেকে আসা দিনমজুররা এক সময় দেশের দক্ষিণাঞ্চলে কাজের সন্ধানে যাওয়ার পথে পার্বতীপুর রেল স্টেশনে ভিড় করতো। বৈশ্বিক মহামারী করোনার কারনে গত ২৬ মার্চ থেকে সারাদেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ।
তাই সড়ক পথে পিক-আপ, কার, মাইক্রোবাস, ট্রাক্টর যোগে ধান কাটতে ছুটছেন দক্ষিনের পাঁচবিবি, জয়পুরহাট, আক্কেলপুর, তিলকপুর, সান্তাহার, আদমদীঘি, আত্রাই, নওগাঁ, নাটোর খুলনা, যশোরসহ বিভিন্ন জেলায়। কিন্তু দেশের অর্থনীতি ও কৃষি ক্ষেত্রে অবদান রাখা ওই সব মজুররা এখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সড়ক পথে ছুটছেন দক্ষিণে।
দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলার রানীরবন্দরের স্কুল ছাত্র আনোয়ার হোসেন (১৬) এবারে এসএসসি পরীক্ষা দিয়েছে। এখনো রেজাল্ট বের হয়নি। সে এলাকার মজুর দলের সাথে যাচ্ছে বগুড়ার সাঁন্তাহারে। নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর উপজেলার প্রান্তিক কৃষক ইয়াছিন আলী (৫০) ১০ জনের দল নিয়ে ধান কাটতে চলেছেন সান্তাহারে উদ্দেশ্যে। ক্ষেতে ধান পাকলেই গৃহকর্তা তাদের ফোন দেন। ওই এলাকায় মজুরী বেশি পাওয়া যায়।
শুধু আনোয়ার হোসেন ও ইয়াছিন আলী নয় উত্তরাঞ্চলের হাজার হাজার কৃষি শ্রমিক অন্যান্য বছরের ন্যায় এবারও ধান কাটতে ছুটছেন দক্ষিণের বিভিন্ন জেলায়।
সোমবার সকাল ১০ টায় পার্বতীপুর বাসটার্মিনাল মোড়ে কথা হয়, নীলফামারী জেলার ডোমার এলাকার কৃষি শ্রমিক আব্দুর রহমানের সাথে। তিনি বলেন, বাবা-মা ও সন্তানের মুখের দিকে চেয়ে অর্থের আশায় রোজগার করতে যাচ্ছি। আমার বাবা-মা বৃদ্ধ মানুষ। সেই সাথে আমার সন্তানের লেখাপড়া খরচ, কাজ না করলে সংসার চলবে কিভাবে। এখনও এলাকায় ধান কাটা শুরু হয়নি। তাই দু-পয়সা কামাইয়ের উদ্যোশ্যে অন্যান্যদের সাথে আমিও ভাড়া করা মাইক্রোয় কাজের সন্ধানে যাচ্ছি।
পার্বতীপুর রেল স্টেশন মাষ্টার জিয়াউল আহসান জানান, নীলফামারী অঞ্চলের কৃষি শ্রমিকদের যাতায়াতের সহজ মাধ্যম ছিল রেলপথ। এক সময় এ অঞ্চলের কৃষি শ্রমিকরা ২৪ ডাউন খুলনাগামী মেইল ট্রেন, ৩২ ডাউন উত্তরা এক্সপ্রেস, আন্তঃনগর সীমান্ত, বরেন্দ্র ও রুপসা এক্সপ্রেস ট্র্র্র্রেনে বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করতেন। করোনার কারনে রেল যোগাযোগ বন্দ থাকায় সড়কপথেই এখন তাদের ভরসা।
পার্বতীপুর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোখলেছুর রহমান বলেন, উত্তরের বিভিন্ন জেলা থেকে প্রতিদিন শতশত কৃষি শ্রমিক সড়কপথে পার্বতীপুর হয়ে কাজের সন্ধানে দক্ষিনের বিভিন্ন পাড়ি জমান। পার্বতীপুর শহরে তিনটি পয়েন্টে শ্রমিক যানবাহন থামিয়ে তারা প্রকৃত কৃষি শ্রমিক কিনা, কাজের সন্ধানে কোথায় যাচ্ছেন? তা প্রতিনিয়ত তদারকি করা হচ্ছে।