এবারে সাতক্ষীরার আম আর বিদেশ তো যাবেই না। দেশের বাজার ঠিকমতো ধরতে পারবে কি না তা নিয়ে জেলার আমচাষিদের মধ্যে তৈরি হয়েছে সংশয়।
সাতক্ষীরা কৃষি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক নূরুল ইসলাম জানান, বৈশ্বিক মহামারী করোনা পরিস্থিতির কারণে এবার বিদেশে আম রপ্তানি যে হবে না এটা বলা যেতেই পারে। কারণ সাতক্ষীরার আম মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে পেকে যায়। দেশের আমের অঞ্চল বলে খ্যাত রাজশাহী অঞ্চলের আমের চেয়ে সাতক্ষীরার আম কমপক্ষে দুই সপ্তাহ আগে পাকে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে দেশের অন্য জেলায় বাজারজাত করা সম্ভব হবে না হয়তো। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে এবার সাতক্ষীরার উৎপাদিত আম ১৪০-১৫০ কোটি টাকায় বিক্রি হওয়ার কথা। কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে আম চাষিদের বিপুল টাকার লোকসানে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তিনি জানান, সাতক্ষীরার আম স্বাদে, মানে ও গুণে বেশ ভালো। সাতক্ষীরার ল্যাংড়া, হিমসাগর, গোপালভোগ, বোম্বাই, গোলাপখাস ও ক্ষিরসরাইসহ বিভিন্ন জাতের আম বিদেশে রপ্তানি হয়। শেষে উৎপাদন হয় আম্রপালি জাতের আম এটিও অনেক জনপ্রিয়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সাতক্ষীরা জেলা অফিসের প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরা জেলার সাতটি উপজেলায় চার হাজার ১১০ হেক্টর জমিতে ৫ হাজার ২৯৯টি আম বাগান আছে। ১৩ হাজার ৯৯ জন চাষি আম উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত। চলতি মৌসুমে জেলায় আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০ হাজার মেট্রিক টন। মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে আম পাড়া শুরু হবে। সাতক্ষীরা জেলা থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩১ দশমিক ৮৩ মেট্রিক টন এবং ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ২৭ মেট্রিক টন নিরাপদ ও বালাইমুক্ত আম ইতালি, ডেনমার্ক, সুইডেন ও ফ্রান্সসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করা হয়েছে। সাতক্ষীরার আম স্বাদে বিশেষত্ব থাকার কারণে জেলার পর দেশের বাজার দখল করে এখন বিদেশের বাজারে প্রবেশ করেছে। কিন্তু এবার বিদেশ নয় দেশের বাজার ঠিকমতো দখল নিতে পারবে কি না যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। এরমধ্যে সাধারণ ভোক্তাদের অর্থনৈতিক অবস্থাও এখন আমের বাজারের জন্য অনুকূলে নেই।
সাতক্ষীরা চেম্বার অফ কমার্স সভাপতি নাসিম ফারুক খান মিঠু বলেন, জেলায় সরকারি হিসেবে আমচাষি আছে ১৩ হাজারের বেশি। কিন্তু বেসরকারি হিসেব মতে তা কমপক্ষে অর্ধলাখ। ব্যবসায়ী সংগঠনের এনেতা আশংকা প্রকাশ করে বলেন, সারা দেশে যোগাযোগ ব্যবস্থার পাশাপাশি অধিকাংশ বড় বড় বাজার বন্ধ। এমন অবস্থায় অন্য জেলায় আম বাজারজাতের ব্যবস্থা করা না গেলে চাষি ও ব্যবসায়ীরা সাংঘাতিক লোকসানের মুখে পড়বে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল জানান, ৩১ মে থেকে সাতক্ষীরায় আম পাড়ার ব্যাপারে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়েছে।