ভারতে ৪০ বছরে প্রথম কার্বন নিঃসরণ কমল

চার দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো বায়ু দূষণকারী অন্যতম উপাদান কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমেছে ভারতে। এতে করোনাভাইরাসের কারণে চলমান লকডাউনের পাশাপাশি দেশটির অন্যান্য প্রচেষ্টারও অবদান রয়েছে বলে বিবিসি’র পরিবেশ বিষয়ক প্রধান প্রতিবেদক জাস্টিন রাওলাটের করা একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যভিত্তিক পরিবেশভিত্তিক ওয়েবসাইট ‘কার্বন ব্রিফ’ এর একটি বিশ্লেষণমূলক তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরে বিবিসি জানিয়েছে, ভারত বিদ্যুতের ব্যবহার কমায় এবং বিকল্প জ্বালানি উদ্ভাবনে মনোযোগী হওয়ায় জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর দেশটির নির্ভরতা কমেছে। এর মধ্যে মার্চ থেকে দেশে লকডাউন জারি হওয়ায় ৩৭ বছর ধরে চলতে থাকা কার্বন বৃদ্ধির হারে টান পড়েছে।

কার্বন ব্রিফের বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, মার্চ মাসে ভারতে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ ১৫ শতাংশ কমেছে। আর এপ্রিলে এর পরিমাণ ৩০ শতাংশ কমে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর অন্যতম কারণ, দেশটিতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কমেছে। ভারতের জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের প্রতিদিনকার তথ্যে জানা গেছে, মার্চে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন ১৫ শতাংশ কমেছে। এপ্রিলের প্রথম তিন সপ্তাহে কমেছে ৩১ শতাংশ। এমনকি ভারতে লকডাউন শুরু হওয়ার আগ থেকেই কয়লার চাহিদা কমতির দিকে ছিল।

মার্চ মাসে ভারতের অর্থবছর শেষে দেখা যায়, কয়লার ব্যবহার কমেছে ২ শতাংশ। অথচ গত দশকে তাপভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রতি বছর ৭ দশমিক ৫ শতাংশ করে বাড়ছিল। একইসময়ে তেলের চাহিদাও কমেছে। ফলে ২০১৯ সালের শুরু থেকে কার্বন নিঃসরণ কিছুটা কমতে শুরু করে। তবে করোনা ভাইরাসের কারণে গোটা ভারত লকডাউন থাকায় কার্বন নিঃসরণ নাটকীয়ভাবে অনেকটা কমে যায়। বিশেষ করে লকডাউনে গণপরিবহন বন্ধ থাকা এর একটি কারণ।

মার্চ মাসে তেলের ব্যবহার কমে ১৮ শতাংশ। অন্যদিকে গত এক বছরে নবায়নযোগ্য শক্তির জোগান উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে।

শুধু ভারত নয়, আন্তর্জাতিক শক্তি সংস্থার (আইইএ) তথ্য মতে, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে বিশ্বে কয়লার ব্যবহার কমেছে ৮ শতাংশ। অন্যদিকে বায়ু ও সৌর শক্তির চাহিদা বেড়েছে।