নীলফামারীতে কৃষকের ধান কেটে ঘরে তুলে দিলো আ.লীগ নেতা-কর্মীরা

নীলফামারীর জেলা সদরের টুপামারী ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামের স্বামীহারা কৃষক রুবিনা আক্তার (৪৫)।  তিন মেয়ে থাকলেও নেই কোন ছেলে সন্তান। স্বামী একরামূল হকের মৃত্যুর পর তিন মেয়ে সন্তানকে নিয়ে দেড় বিঘা জমির কৃষির আয়ে জীবীকা নির্বাহ করে আসছেন রুবিনা আক্তার। 

চলতি বোরা মৌসুমে ওই তিন বিঘা জমিতে ধান চাষ করেছেন তিনি। ইতিমধ্যে ক্ষেতে ধান পেকে কর্তনের উপযোগি হয়ে পড়েছে।  কিন্তু করোনা পরিস্থিতিতে অর্থ সংকটে পড়ে নিজের ক্ষেতের পাকা ধান কাটতে পারছিলেন না বিধবা কৃষক রুবিনা আক্তার।

মঙ্গলবার সে ধান কেটে দিলেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীরা। জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি কামরুজ্জামান কামরুল, সাধারণ সম্পাদক দীপক চক্রবর্তী ও জেলা পরিষদের সদস্য আব্দুল হান্নান সরকারের নেতৃত্বে ধান কাটায় অংশ নেয় সংগঠনের ৩০ নেতাকর্মী। তারা জমির পাকা ধান কেটে মাড়াইয়ের পর তুলে দিলেন নারী কৃষকের ঘরে।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক দীপক চক্রবর্তী জানান, একরামূল হকের মৃত্যুর পর তিন  মেয়ে সন্তানকে নিয়ে দেড় বিঘা জমির কৃষির আয়ে জীবীকা নির্বাহ করে আসছিলেন ওই নারী। এবারে করোনার প্রভাবে অর্থ সংকটে ধান কাটা নিয়ে অসহায় হয়ে পড়ে তিনি। খবর পেয়ে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে ধান কেটে ঘরে তুলে দেওয়া হয়।

অপরদিকে, মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে  সদর উপজেলার পলাশবাড়ি ইউনিয়নের তরণীবাড়ি বিধান মাস্টারপাড়া গ্রামের অসহায় নারী কৃষক রজবালা রায়ের (৬৭) তিন বিঘা জমির ধান কেটে বাড়িতে তুলে দেন সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। 

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াদুদ রহমানের নেতৃত্বে পলাশবাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শান্তিপদ রায়, জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ সরকার, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক শাহদত হোসেন নসীব, সাংগঠনিক সম্পাদক ইফতেখার আহমেদ উদাসসহ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ৫০ নেতাকর্মী অংশ নেন।

সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওয়াদুদ রহমান জানান, স্বামী হারা ও  ছেলে সন্তান না থাকায়  করোনা পরিস্থিতিতে ওই নারী চরম অর্থ সংকটে পড়েন। অর্থের অভাবে ক্ষেতের পাকা ধান কাটতে পারছিলেন না তিনি। খবর পেয়ে আমরা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে ওই নারী কৃষকের তিন বিঘা জমির ধান কেটে ও মাড়াই করে ঘরে তুলি দিয়েছি।’