মোহাম্মদ জাহিদ। ২৬ বছরের যুবক। এ বয়সেই রাজধানীর মিরপুরে টিনশেড বাড়িসহ অনেক সহায়-সম্পদের মালিক। বাবা মল্লিক চাঁন কয়েক বছর আগে মারা যান। পাঁচ ভাই ও এক বোনের মধ্যে জাহিদ তৃতীয়। এ ব্যবসায়ীর আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবেরও অভাব ছিল না। তবে কভিড-১৯ উপসর্গে ভুগে মারা যাওয়ার পর এগিয়ে আসেনি পরিবার বা আত্মীয়স্বজনের কেউ। জানা যায়, গত সোমবার সন্ধ্যায় মারা যাওয়ার পর রাত ১০টা পর্যন্ত মিরপুর-১৩-এর সি-ব্লকের ৪ নম্বর সড়কের ৩৯ নম্বর বাসায় ওই যুবকের নিথর দেহ পড়ে ছিল। এমন খবর পেয়ে সেখানে হাজির হন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পাথওয়ের সদস্যরা। গোসল-কাফন শেষে রাত সাড়ে ১২টার দিকে লাশ দাফন করেন প্রতিষ্ঠানটির দাফন টিমের সদস্যরা।
স্থানীয় কয়েকজন দেশ রূপান্তরকে জানান, এক সপ্তাহ ধরে শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন জাহিদ। কিন্তু তিনি করোনা-পরীক্ষা করাননি। গত সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ওই যুবক মারা যান। এরপর লাশ দাফন করা নিয়ে বিপাকে পড়ে পরিবারের লোকজন। কেউ কাছে যায়নি, ছুঁয়েও দেখেনি। দাফনের ব্যবস্থা করতে প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজনও সহযোগিতা করেনি। অবশেষে খবর যায় সামাজিক সংগঠন পাথওয়ের দাফন টিমের কাছে। পরে তারা গিয়ে দাফন করে।
পাথওয়ের নির্বাহী পরিচালক মো. মাহিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ওই যুবকের এলাকায় বসবাস করেন আমাদের দাফন টিমের প্রধান মনির। দাফনের কোনো সুরাহা না হওয়ায় আত্মীয়দের মধ্য থেকে মনির ভাইয়ের কাছে খবর যায় দাফনের জন্য। এরপর আমাকে জানান তিনি। রাতেই আমি পুরো দাফন টিমকে সেখানে পাঠিয়ে দিই। পাথওয়ের সদস্যরা ধর্মীয় আচার মেনে সোমবার রাত ১২টার দিকে মিরপুর-১৩-এর বাইশটেকি কবরস্থানে দাফনকার্য সম্পন্ন করে। তিনি আরও বলেন, সারা দেশের বিভিন্ন এলাকায় কভিড-১৯-এ আক্রান্ত হয়ে বা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া ব্যক্তির লাশ দাফনে ভীতির পাশাপাশি বাধা সৃষ্টি করছে স্থানীয়রা। অনেক জায়গায় আবার টাকার বিনিময়ে অন্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির দাফনও সম্পন্ন করতে হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাধা পাওয়ার পর পুলিশ কিংবা প্রশাসনের সহায়তা নিতে হচ্ছে দাফনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে।