বরিশালে নতুন সম্ভাবনা নিয়ে শুরু হয়েছে কিডনি ডায়ালাইসিস। বরিশালে যা ছিল সোনার হরিণ। কম খরচে এখন বরিশালেই সম্ভব হবে কিডনি ডায়ালাইসিস। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রথামবারের মতো চালু হয়েছে কিডনি ডায়ালাইসিস।
মঙ্গলবার দুপুরে কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন শের-ই-বাংলা মেডিকেল কালেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন। এরপর প্রথম বারের মতো সফল ডায়ালাইসিস সম্পন্ন হয়।
গত মঙ্গলবার দুপুরে পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার বাহেরচর গ্রামের মো. খসরু আলম সিকদার নামে এক রোগীর কিডনি ডায়ালসিসের মাধ্যমে হাসপাতালের এই নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নেপ্রোলজি বিভাগের প্রধান সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. আলী রুমি বলেন, করোনার কারণে আপতত সংক্ষিপ্ত পরিসরে কিডনি ডায়ালাইসিসের কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
পর্যায়ক্রমে এই ইউনিটে ৪০টি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন করা হবে। শের-ই-বাংলা মেডিকেলে কিডনি প্রতিস্থাপন ছাড়া কিডনীর অন্যান্য সকল রোগের চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানান তিনি।
বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা হয় ১৯৬৮ সালে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ ৫২ বছরে কিডনি রোগীদের ডায়ালাইসিস করার সুযোগ ছিল না। দক্ষিণাঞ্চলের মানুষদের কিডনি ডায়ালাইসিসের জন্য ছুটতে হতো ঢাকা কিংবা অন্য কোনো বেসরকারি ক্লিনিকে। লাখ লাখ টাকা খরচ করে কিডনি ডায়ালাইসিস করতে হতো। বতর্মানে মাত্র ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই সেবা পাওয়া যাবে। প্রথম দক্ষিণাঞ্চলের উন্নত চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিস শুরু হওয়ায় খুশি হয়েছেন রোগী ও চিকিৎসকরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের দায়িত্বশীল একজন চিকিৎসক জানান, আওয়ামী লীগে সরকারের টানা তৃতীয় মেয়াদের প্রথম দিকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কিডনি ডায়ালাইসিসের জন্য দুটি মেশিন পাঠানো হয়েছিল। দীর্ঘদিন সেগুলো বাক্সবন্দী অবস্থা পড়ে ছিল। এক পর্যায়ে প্যাকেট অবস্থায়ই অকেজো হয়ে যায় কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, দীঘ দিনের দাবির প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি কেন্দ্রীয় ওষুধাগার থেকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জন্য ১০টি কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন পাঠানো হয়। প্রায় ১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা ব্যয়ে জাপানের নিপ্রো কোম্পানির তৈরি ওই মেশিন হাসপাতালে স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে এর সহায়ক হিসেবে ৫টি ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট, ২টি অটোমেটিক ডায়ালাইজার রিফ্রেশার এবং ডায়ালাইসিস বেডসহ অন্যান্য সরঞ্জাম পাঠানো হয়। সম্প্রতি ওই মেশিনগুলো হাসপাতালের তৃতীয় তলার মেডিসিন বিভাগের পাশে স্থাপন করা হয়।
হাসপাতালের নেপ্রোলজি বিভাগের রেজিস্টার ডা. মানবেন্দ্র দাস জানান, কিডনী রোগীদের ৬ মাসে (প্রতি সপ্তাহে ২ বার) হিসেবে মোট ৪৮ বার ডায়ালাইসিন করতে হয়। বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে কিডনি ডায়ালাইসিস করতে প্যাকেজ হিসেবে ২ লাখ ৪০ হাজার থেকে আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থাপন করা কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিন দিয়ে ৬ মাসের প্যাকেজ মাত্র ২০ হাজার টাকা ব্যয়ে ডায়ালাইসিস করা সম্ভব হবে। এতে সপ্তাহে দুটি করে মোট ৪৮টি ডায়ালাইসিসের সুবিধা পাবেন রোগীরা। হাসপাতালে নতুন ডায়ালাইসিস মেশিনের সুবিধা বপেন দক্ষিণাঞ্চলের সাধারণ রোগীরা।
কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে পস্থিত ছিলেন হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মনিরুজ্জামান শাহিন, নেফ্রলোলজি বিভাগের প্রধান সহকারী অধ্যাপক ডা. মো. আলী রুমি এবং রেজিস্ট্রার ডা. মানবেন্দ্র দাস, আউটডোর ডক্টরস্ অ্যাসোসিয়েশনসের সভাপতি ডা. সৌরভ সুতার, সম্পাদক ডা. নূরুন্নবী চৌধুরী তুহিন, অন্তঃবিভাগ চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. সুদীপ হালদার, সম্পাদক আশিশ দত্তসহ অন্যান্যরা।