করোনা মহামারির মধ্যেই ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ার কথা উল্লেখ করে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেছেন, প্রতি বছর বর্ষাকালীন সময়ে ডেঙ্গুর ভয়াবহ প্রকোপ দেখা দেয়। করোনা ভাইরাসের মতোই ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়াও প্রাণঘাতী রোগ।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়া যেন অন্যান্য বছরের মতো ভয়াবহ রূপ নিতে না পারে সে জন্য আমি আগে থেকেই সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছি। শহরবাসীকে রক্ষা করতে আমাদের মশক নিধন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
মো. আতিকুল ইসলাম বুধবার দুপুরে গুলশানের নগর ভবনে ডিএনসিসির মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণকালে এসব বলেন। এ সময় প্যানেল মেয়র মো. জামাল মোস্তফা, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল হাই, সচিব রবীন্দ্রশ্রী বড়ুয়া ও বিভাগীয় প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন
আতিক বলেন, করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ কমাতে আপনারা যেমন বাসায় থাকছেন, স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলছেন, ঠিক তেমনি ডেঙ্গু এবং চিকুনগুনিয়া রোধে নিজের বাসার আশপাশের জায়গাগুলোকে পরিষ্কার করতে আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে করে নগরবাসী করোনার পাশাপাশি ডেঙ্গুর হাত থেকেও মুক্ত থাকতে পারে।
বিদ্যমান পরিস্থিতিতে নগরবাসীকে আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ডিএনসিসির প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় ফগার মেশিনের সাহায্যে নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। এছাড়া বছরব্যাপী মশক নিধনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে কীটতত্ত্ববিদরা গবেষণা করে কোন এলাকায় মশার তীব্রতা কত তা নির্ধারণ করেছেন এবং সে অনুযায়ী মশকনিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সেই সাথে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ওয়াসা, রাজউক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সকল প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয় করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডের কাউন্সিলররা এই কাজের সাথে যুক্ত হবেন। যদি কেউ তার দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করেন বা ব্যর্থ হন তবে তাকে জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে।
উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রতিটি এলাকার ঝোপঝাড় এবং আবর্জনা নিয়মিত পরিষ্কার করা হচ্ছে। প্রতিটি বাড়ি, ভবন, প্রতিষ্ঠানে গিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। কোথাও জমে থাকা পানি বা এডিস মশার বংশ বিস্তারের উপযোগী পরিবেশ পাওয়া গেলে সেখানে আইন অনুযায়ী অর্থদণ্ড বা কারাদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে। ১৬ মে থেকে পরিচ্ছন্নতা ও মশককর্মী দ্বারা চিরুনি অভিযান পরিচালনা করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া থেকে রক্ষা পেতে নিয়মিত লার্ভিসাইডিং, অ্যাডাল্টিসাইডিংসহ সচেতনতামূলক কার্যক্রম যেমন মাইকিং, ডিএনসিসির ফেইসবুক পেইজ এবং গণমাধ্যমে নিয়মিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে। জনসাধারণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছানোর লক্ষ্যে ডিএনসিসি একটি হটলাইন চালু করেছে।
বিনা মূল্যে ডিএনসিসি এলাকার ৫টি নগর মাতৃসদন ও ২২টি নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ১১ মে থেকে ডেঙ্গু পরীক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শুক্রবার ব্যতীত প্রতিদিন সকাল ৯ টা থেকে বেলা ২ টা পর্যন্ত এই স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোতে বিনা মূল্যে ডেঙ্গু পরীক্ষা করা যাবে।
তিনি বলেন, করোনা সংক্রমণে আপনারা সকলে মিলে একসাথে এগিয়ে এসেছেন। আশা করছি ডেঙ্গু থেকে বাঁচতেও সবাই একসাথে কাজ করবেন এবং সিটি করপোরেশন কর্তৃক প্রদত্ত নিয়মাবলি মেনে চলবেন।