‘সামাজিক দূরত্ব রেখে কীভাবে অর্থনীতি চলবে, তা নিয়ে সচেতনতা তৈরি হয়নি’

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় ভারতজুড়ে জারি করা কয়েক দফায় লকডাউন জারির কথা উল্লেখ করে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, এতে জনগণকে করোনা সম্পর্কে সচেতন করে তোলার পাশাপাশি সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে মাস্ক পরতে বলা হয়েছে। কিন্তু সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে কীভাবে অর্থনীতি পরিচালনা করতে হবে, সেই পর্যায়ের সচেতনতা তৈরি হয়নি।

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের টিভি চ্যানেল ‘এবিপি আনন্দ’-এর সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

অভিজিৎ বলেছেন, দরিদ্র মানুষজনের হাতে এখন অর্থ নেই। সে জন্য তাদের ক্রয়ক্ষমতা একেবারেই দুর্বল। এসব সাধারণ মানুষের হাতে অর্থ পৌঁছানো উচিত সরকারের। কারণ তারাই অর্থনীতি চালায়, ধনীরা নয়।

এই অর্থনীতিবিদ মনে করেন, তিন থেকে ছয় মাসে ধাপে ধাপে গরিব মানুষের হাতে অর্থ পৌঁছানো উচিত। আর তারা যদি ওই অর্থ ব্যয় না-ও করে, সেটি কোনো সমস্যা নয়।

অভিজিৎ বলেন, ‌করোনাভাইরাসের প্রভাব মোকাবিলায় ভারত ইতিমধ্যে ১ দশমিক ৭ ট্রিলিয়ন রুপি বা ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি রুপির ত্রাণ প্যাকেজ ঘোষণা করলেও তা কিন্তু মোট দেশজ উৎপাদনের মাত্র ১ শতাংশেরও কম। আমাদের ত্রাণ সহায়তায় জিডিপির অনুপাতে আরও বেশি পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা উচিত।

কারণ ভারতে মানুষের প্রধান সমস্যা হলো তাদের ক্রয়ক্ষমতা বেশি নয়। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জাপানের মতো দেশগুলো ত্রাণ সহায়তায় যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় করছে, তা জিডিপির অনুপাতে অনেক ভালো।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে চীন থেকে বিনিয়োগ-ব্যবসায় স্থানান্তর শুরু হবে। তবে এই সুযোগ ভারত নিতে পারে কি না, সেটি আমি নিশ্চিত নই।

চীন থেকে কোভিড-১৯ ভাইরাস শুরু হয়ে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার কারণে সেই দেশের বিরুদ্ধে সবাই অভিযোগ তুলছেন। মানুষ বলছেন, চীন থেকে ব্যবসায় স্থানান্তর শুরু হলে তা ভারতে আসতে পারে। কিন্তু এই ধারণা সত্য নয়।

চীন তার মুদ্রা ইউয়ানের বিনিময় হার কমায় কি না, সেটিও একটি বিবেচ্য। ইউয়ানের বিনিময় হার কমানো হলে চীনা পণ্যে দাম কম পড়বে। তখন মানুষ সস্তায় চীনা পণ্য কিনবে।

অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ভাসমান শ্রমিকদের (এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় গিয়ে যারা কাজ করেন) দায়িত্ব নিতে হবে। তারা কী রকম সমস্যার মুখে পড়তে পারেন, তা আমরা চিন্তা করিনি। তাদের কোনো আশ্রয় নেই, পকেটও পুরো খালি। এই অবস্থায় তাদের জন্য জরুরি ভিত্তিতে তিন কি ছয় মাসের রেশন কার্ড চালু করা উচিত।