ঘরে বসে পরীক্ষার প্রস্তুতি

স্কুল খুলে দেওয়ার পরই হয়তো তোমরা পরীক্ষার রুটিন পেয়ে যাবে। তাই লকডাউনের এই সময়ে ঘরে বসেই পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিয়ে নাও। পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষকা রেবেকা মাহামুদ

 প্রস্তুতির শুরুতেই গত বছরের প্রশ্ন দেখে নাও। সচরাচর আসে এমন প্রশ্নগুলোর ধরন কী, কোন কোন টপিকস থেকে প্রশ্ন থাকার প্রবণতা বেশি, সেগুলো খুঁজে বের করো। আর কোন টপিক থেকে সাধারণত প্রশ্ন থাকে না, সেগুলোও নোট করো। এ কাজটি যত ভালোভাবে করতে পারবে, প্রস্তুতি পরিকল্পনা সাজানো তত সহজ হবে।

 পরীক্ষায় কী ‘পড়বে’, তার চেয়ে বেশি জরুরি হলো ‘কী বাদ দেবে’। যখন বুঝবে কোন ধরনের প্রশ্ন পরীক্ষায়  আসে, কোন কোন টপিকস থেকে বেশি বেশি প্রশ্ন আসে, তখন সেসব টপিকস নিয়ে নিজেই একটা সাজেশন বা গাইডলাইন তৈরি করতে পারবে। এই গাইডলাইন ধরেই প্রস্তুতি শুরু করে দাও।

 পরীক্ষার জন্য সময় ভাগ করে নাও। খেয়াল রাখো যেন এ সময়ের মধ্যে পর্যায়ক্রমে সব বিষয়ের প্রস্তুতি হয়ে যায়। মাসিক রুটিনের পাশাপাশি দৈনন্দিন রুটিনও ঠিক করে ফেল। সে অনুযায়ী প্রতিদিনই প্রস্তুতি নাও। প্রস্তুতি যেমন ভালো হবে, আত্মবিশ্বাসও বাড়বে।

 অনেক ছাত্রছাত্রী ইংরেজিতে দক্ষ কিন্তু গণিতে দুর্বল। আবার কেউ কেউ গণিতে দক্ষ, তবে ইংরেজিতে কাঁচা। তাই প্রথমে কিছুদিন ইংরেজি ও গণিতে বাড়তি সময় দাও। বিষয় দুটিকে সমানভাবে গুরুত্ব দাও।

 নিজের ভোকাবুলারি সমৃদ্ধ থাকলেই ইংরেজিতে ভালো করাটা সহজ হয়ে যায়। প্রতিদিন ২০-২৫টি করে নতুন নতুন ইংরেজি শব্দ শিখে নাও। প্রতিদিনের রুটিনের একটা সময় এর জন্য রাখো।

 ইউটিউব কিংবা ওয়েবসাইট থেকে প্রতিদিন বিদেশি সংবাদমাধ্যমগুলোর ইংরেজি খবর শুনতে বা পড়তে পারো। জাতীয় পত্রিকাগুলোও নিয়মিত পড়বে। বিশেষ করে অর্থনৈতিক, আন্তর্জাতিক ও সম্পাদকীয় পাতা। প্রতিদিন ইংরেজি দৈনিকের এডিটোরিয়াল বাংলায় এবং বাংলা দৈনিকের সম্পাদকীয় ইংরেজিতে অনুবাদ করতে পারলে সবচেয়ে ভালো হয়। এই কাজগুলো করতে পারলে দীর্ঘমেয়াদি ফল দেবে। এতে সাধারণ জ্ঞানে তো দক্ষ হবেই, পাশাপাশি ইংরেজিতেও (বিশেষ করে অনুবাদ ও লেখায়)  দারুণ দক্ষ হয়ে উঠবে।

 গণিতে দুর্বলতা থাকলে বুঝে বুঝে অনুশীলন করো, মুখস্থ করতে গেলে পরে বিপদে পড়বে।

 গণিত ও ইংরেজির কোনো বিষয়ে একটু দুর্বলতা থাকলে কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি দিয়ে এগিয়ে থাকতে পারবে। তাই এ বিষয়ের প্রস্তুতি সময়মতো ঝালিয়ে নাও।

 বাংলা, ইতিহাস, ধর্ম প্রভৃতি কোনো বিষয়কেই অবহেলা করার সুযোগ নেই। সে জন্য সব বিষয়েরই প্রস্তুতি নিতে হবে জোরালোভাবে। বাংলার ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে ব্যাকরণ অংশে।

 বাসায় বসে বসে নিজে নিজেই মডেল টেস্ট দাও। প্রস্তুতিতে ঘাটতি থাকলে হতাশ হয়ে হাল ছেড়ে দিও না, যতটুকুই প্রস্তুতি নিয়েছো আর যতটুকু পড়ার সুযোগ আছে, পুরো সুযোগই কাজে লাগানোর চিন্তা করো।