করোনাভাইরাসের কারণে চলমান লকডাউনে ৪০ বছরের মধ্যে গত মাসে রেকর্ড সংখ্যক মানুষ চাকরি হারিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ায়। বিশ্বের অন্যতম উন্নত দেশটিতে এপ্রিলে বেকার হয়েছেন প্রায় ৬ লাখ!
বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ান ব্যুরো অব স্ট্যাটিসটিকস (এবিএস) জানিয়েছে, এক লাখ মানুষ বেকারভাতা পাওয়ার জন্য আবেদন করেছেন। এ ছাড়া ৫ লাখ মানুষ একেবারে চাকরি হারা হয়েছেন।
বেকারত্বের এই সংখ্যাটাকে ‘অন্তত ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন।
এবিএসের তথ্য-উপাত্তে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাস সংকটের কারণে এপ্রিলে বেকার ও প্রায় বেকারের মোট সংখ্যা রেকর্ড ১৯.৯ শতাংশে পৌঁছেছে। দেশের ২৭ লাখ মানুষ বা প্রতি পাঁচ অস্ট্রেলিয়ান কর্মজীবীর একজন হয় তাদের কর্মস্থল ত্যাগ করেছে, আর না হয় তাদের কর্মঘণ্টা কমিয়ে দিয়েছে। কর্মজীবীদের কাজে সম্পৃক্ততা ‘নজিরবিহীন’ হারে কমে দাঁড়িয়েছে ৬৩.৫ শতাংশ।
কাজে সম্পৃক্ততার হার কমে যাওয়ার অর্থ অস্ট্রেলিয়ায় বেকারত্বের সংখ্যা এক শতাংশ থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬.১ শতাংশ। কেউ কেউ বলছে এর সংখ্যাটা দাঁড়াতে পারে আট শতাংশে।
গত মাসে ব্যাপক চাকরি হারার পর বর্তমানে চাকরি নিয়ে আছে মাত্র ১ কোটি ২৪ লাখ অস্ট্রেলিয়ান, যা ১৯৭৮ সালের পর সবচেয়ে কম বলে জানিয়েছে এবিএস।
সামনের মাসগুলোতে অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি আরও খারাপ হতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী মরিসন, “সামনে খুবই কঠিন সময়। ভয়াবহ পরিস্থিতি হতে পারে। যদিও এসব অপ্রত্যাশিত ছিল না।”
“বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো অস্ট্রেলিয়ার ওপরও এই মহামারির প্রভাব পড়ায় বাজে সংবাদ যে আসবে তা আমরা জানতাম।”
এদিকে অর্থনীতির চাকা পুনরুজ্জীবিত করতে কিছু কিছু অঞ্চলে লকডাউন শিথিল করতে যাচ্ছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৬ হাজার; মৃত্যু হয়েছে ৬২৪ জনের।