ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের সর্বশেষ অগ্রগতি

নভেল করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন তৈরি করতে বিশ্বজুড়ে শতাধিক কোম্পানি চেষ্টা করছে। বেশ কয়েকটির হিউম্যান ট্রায়াল চলছে অনেক দিন হয়ে গেল। সেগুলোর অগ্রগতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীরা সর্বশেষ পরিস্থিতির কিছু আপডেট দিয়েছেন।

চলতি সপ্তাহে আমেরিকার ভ্যাকসিন প্রকল্পের নেতৃত্ব পেয়েছেন দেশটির সাবেক ফার্মাসিউটিক্যাল এক্সিকিউটিভ মনসেফ স্লোই। দায়িত্ব নিয়ে তিনি ট্রায়ালের ফলাফল পর্যবেক্ষণ করেছেন। শুক্রবার হোয়াইট হাউজে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমি অতি সম্প্রতি ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ডেটা দেখেছি। ফলাফল আমাকে আরও আত্মবিশ্বাসী করেছে। আমরা ২০২০ সালের শেষ দিকে কয়েক শ মিলিয়ন ভ্যাকসিন ডোজ সরবরাহ করতে পারব।’

কোনো প্রতিষেধক না থাকা কভিড-১৯ রোগের ভ্যাকসিন আবিষ্কার করতে অনেক দেশ উঠেপড়ে লেগেছে। এর মধ্যে আমেরিকায় ১২টি কোম্পানি চেষ্টা করছে। চীনে হিউম্যান ট্রায়ালে আছে  পাঁচটি। আমেরিকার সঙ্গে যৌথভাবে জার্মানি আরেকটি নিয়ে কাজ করছে।

ব্রিটেনের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি তৈরি করেছে চাডক্স১ এনকভ-১৯ ভ্যাকসিন। সেখানকার বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, সেপ্টেম্বরের ভেতর তাদের ভ্যাকসিন তৈরি হয়ে যাবে।

আমেরিকার কোন কোম্পানির ভ্যাকসিনের ট্রায়াল মনসেফকে ‘আত্মবিশ্বাসী’ করছে সেটি তিনি পরিষ্কার করেননি। তবে জানিয়েছেন মর্ডানা কোম্পানির ভ্যাকসিন তৃতীয় ধাপের ট্রায়াল শুরু করতে যাচ্ছে। দুই ধাপ ইতিমধ্যে শেষ।

আমেরিকার ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফডিএ) থেকে জানানো হয়েছে, মর্ডানার এমআরএনএ-১২৭৩ ভ্যাকসিনকে ‘ফাস্ট-ট্র্যাকড’ আওতায় ফেলা হয়েছে।

জরুরি ভিত্তিতে ভ্যাকসিন তৈরির অনুমোদন প্রক্রিয়াকে ‘ফাস্ট-ট্র্যাকড’ বলা হয়।

স্বাভাবিকভাবে নতুন একটি রোগের ভ্যাকসিন তৈরি করতে কয়েক বছর লেগে যায়। ডেঙ্গুর মতো অনেক রোগের ভ্যাকসিন আবার এখন পর্যন্ত তৈরি সম্ভব হয়নি। তবে চিকিৎসা ব্যবস্থা আছে। অনেকের শঙ্কা, করোনার ক্ষেত্রেও এমনটি হতে পারে।

একটি ভ্যাকসিনের তৃতীয় ধাপের ট্রায়াল সবচেয়ে বেশি জটিল এবং চ্যালেঞ্জিং। এই ধাপে একসঙ্গে অনেক মানুষের শরীরে ভ্যাকসিন দেয়া হয়। ভাইরাসের বিরুদ্ধে অ্যান্টিবডি ঠিকমতো কাজ করছে কি না, কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে কি না, সেসব এই ধাপে চূড়ান্তভাবে বিশ্লেষণ করা হয়।

চীন কী বলছে: চীনের পাঁচটি ভ্যাকসিনের দুটি তৈরি হচ্ছে দেশটির সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে। ক্যানসিনো বায়োলজিক্স সবচেয়ে বেশি এগিয়েছে।

কোম্পানিটিকে উদ্ধৃত করে চীনা ডেইলি জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে তারা প্রথম ধাপের ট্রায়ালের ডেটা বিশ্লেষণ করে ‘ইতিবাচক’ ফলাফল পেয়েছে। এরপর পরবর্তী ধাপে যাওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

চীনের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, সেপ্টেম্বরের ভেতর তাদের ভ্যাকসিন আসতে পারে। সেটি আসলে শুধু জরুরি ভিত্তিতে ব্যবহার করা হবে। যেসব চিকিৎসকেরা কভিড-১৯ মোকাবিলায় কাজ করছেন, তাদের শরীরে দেয়া হবে।

উৎপাদনে যাবে ভারত: ব্রিটেনের অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির চাডক্স১ এনকভ-১৯ ভ্যাকসিন কয়েক মাসের ভেতরই তৈরি করতে চায় ভারত। দেশটির স্বনামধন্য ভ্যাকসিন প্রস্ততকারক প্রতিষ্ঠান সিরাম ইন্সটিটিউট জানিয়েছে, তারা এক বছরে ৬০ মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন সরবরাহ করতে চায়। খবর টাইমস অব ইন্ডিয়ার।

ভ্যাকসিনের হিউম্যান ট্রায়ালের সময় বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, দ্রুত কাজ করলেও সব ডেটা বিশ্লেষণ করতে আনুমানিক ৬ মাস লাগবে।

নতুন ভ্যাকসিন আবার অধিকাংশ সময় প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল দেয় না। এক্ষেত্রে সেটি হলে পুরো প্রক্রিয়া নতুন করে সাজানো হতে পারে। ডোজের মাত্রা পাল্টানো হতে পারে। অথবা প্রোগ্রাম বন্ধ করা হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা: ভ্যাকসিন বিষয়ক সর্বশেষ বক্তব্যে ‘সাত থেকে আটটি’ ক্যানডিডেট (সরকারি অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা প্রতিষেধক) নিয়ে আশাবাদী হওয়ার কথা জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ডব্লিউএইচও।

সংস্থাটির প্রধান তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস গত সোমবার জাতিসংঘের ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কাউন্সিলের ভিডিও কনফারেন্সে ওই ‘সাত-আটটি’ প্রতিষেধককে গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘৪০টির বেশি দেশ, সংস্থা এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে ৮ বিলিয়ন ডলারের সাহায্যে দ্রুত ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা চলছে।’