সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পৌর এলাকার পাড়কোলা গ্রামের অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পে শনিবার দুপুরে অর্ধশতাধিক নারী হামলা চালিয়ে এক চোরকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকার দায়ে পুলিশ দুলু খাতুন(৫০) নামের এক মহিলাকে আটক করেছে।
এ বিষয়ে ওই ক্যাম্পের ডিউটি অফিসার এসআই আসাদুর রহমান জানান, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে খবর পেয়ে পারকোলা গ্রামের মনতাজের বাড়ি থেকে টিউবয়েল চুরি করে পালানোর সময় আইগবাড়ি পাড়কোলা গ্রামের আফসার আলীর ছেলে রাশিদুল (২৫) কে আটক করে অস্থায়ী ক্যাম্পের একটি গাছের সাথে রশি দিয়ে বেঁধে রাখা হয়। এ সময় অর্ধশতাধিক নারী লাঠিসোটা নিয়ে অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্পে হামলা চালায়। এ সময় তাদের বাঁধা দিলে তারা পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে ৪ পুলিশকে আহত করে ওই চোরকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। আহত পুলিশ সদস্যরা হলেন-এএসআই নূর নবী, কন্সটেবল তুহিনুর রহমান, তৌহিদ হাসান ও রাকিবুল হাসান।
খবর পেয়ে শাহজাদপুর থানা পুলিশ ওই চোরকে উদ্ধারে হামলাকারী নারীদের বাড়ি বাড়ি তল্লাশি চালায়। এ সময় পুলিশ ওই চোরকে উদ্ধার করতে না পারলেও এ হামলার সাথে জড়িত দুলু খাতুনকে আটক করে। এ ছাড়া হামলায় ব্যবহৃত ১টি বল্লাম, ১টি হাসুয়া ও ১০/১২টি বাঁশের লাঠি জব্দ করেছে।
অপর দিকে হামলাকারীদের মধ্যে পক্ষে রজিনা খাতুন, বুলবুলি খাতুন, হোসনে আরা খাতুন, তাছলিমা খাতুন ও জুয়েল রানা অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ বাড়ি বাড়ি তল্লাশির সময় বুলবুলি খাতুনের বাড়ির দু‘টি দরজা ভাংচুর করেছে। এ ছাড়া তাদের উপর লাঠিচার্জ করে ৬ নারী ও শিশুকে আহত করেছে। আহতরা হল- দেলোয়ারা খাতুন (৬০), মুন্নি খাতুন (৩০), আমেনা খাতুন (৩০), সোনালি (২৫), রাব্বি (৩), সোনেকা (৫০)।
উল্লেখ্য, আধিপত্য বিস্তার ও একটি পুকুরের মাছ বিষ দিয়ে মেরে ফেলাকে কেন্দ্র করে গত ৩ মে শাহজাদপুর পৌরসভার ৫নং ওযার্ডের কাউন্সিলন বেলাল হোসেনের সাথে ও সাবেক কাউন্সিলর পীযুষের লোকজনের রক্তক্ষয়ী হামলা সংঘর্ষ হয়। এ সংঘর্ষে বেলাল গ্রুপের আলী আজগার প্রামাণিক (৬৫) প্রতিপক্ষের ফালার আঘাতে নিহত হয়। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওই গ্রামে একটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়। তারপরেও হরহামেশাই পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে চুরি ও লুটপাটের ঘটনা ঘটছে। এ দিন দুপুরে বেলাল গ্রুপের রাশিদুল পিযুষ গ্রুপের মনতাজ আলীর বাড়ির টিউবওয়েল চুরি করে পালানোর সময় ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ রাশিদুলকে আটক করে ওই অস্থায়ী ক্যাম্পের একটি গাছের সাথে বেধে রাখে। খবর পেয়ে তার পক্ষের অর্ধশতাধিক নারী ওই পুলিশ ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়ায় এ ঘটনা ঘটে।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর থানার ওসি আতাউর রহমান বলেন, এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।