চট্টগ্রামে করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসায় গতকাল শনিবার আরও দুটি হাসপাতাল যুক্ত করা হয়েছে। এগুলো হলো চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ১০০ শয্যা ও ১০০ শয্যার হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতাল। ফলে চট্টগ্রামে দুটি ডেডিকেটেডসহ ছয়টি হাসপাতালের ৪২০টি শয্যা করোনা রোগীদের জন্য ব্যবহার করা যাবে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হাসান শাহরিয়ার কবির দেশ রূপান্তরকে এসব তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘আজ (গতকাল) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে দ্রুত হাসপাতাল দুটি করোনা রোগীর চিকিৎসায় চালুর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আমরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। আশা করছি, ২০ মের মধ্যে বেসরকারি হলি ক্রিসেন্ট এবং এই সপ্তাহেই চমেক চালু করা সম্ভব হবে।’
চট্টগ্রামে প্রত্যেক দিনই করোনায় আক্রান্ত বাড়ছে। হোম আইসোলেশনে জোর দেওয়া হলেও গুরুতর রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হচ্ছে। গত শুক্রবার পর্যন্ত জেলায় মোট ৬৪১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে মারা গেছেন ৩১ জন। করোনা প্রাদুর্ভাবের পরপরই চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রামে ১১০ শয্যার (১০টি আইসিইউ) জেনারেল হাসপাতাল ও ৩০ শয্যার বিআইটিআইডি ডেডিকেটেড করে দেওয়া হয়। এ ছাড়া চমেক হাসপাতালে ৩০ শয্যার ফ্লু কর্নারে ও বেসরকারি ৫০ শয্যার ফিল্ড হাসপাতালে করোনা রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়ে আসছে।
শুক্রবার পর্যন্ত জেনারেল হাসপাতালে ১০৯ জন, বিআইটিআইডিতে ১৭, চমেক হাসপাতালের ফ্লু কর্নারে ৩০ এবং ফিল্ড হাসপাতালে ৩৭ করোনা রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে সরকারি পর্যায়ে ভেন্টিলেশন-আইসিইউ শয্যা রয়েছে শুধুমাত্র জেনারেল হাসপাতালে। ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডি হাসপাতালে ভেন্টিলেশন-আইসিইউ কোনো সুবিধাই নেই।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি জানান, প্রতিদিন নতুন রোগীর সঙ্গে ছাড়পত্র নিয়ে অনেকেই হাসপাতাল ছাড়ছেন। নমুনা পরীক্ষায় ৫০ জন শনাক্ত হলে তাদের মধ্যে মাত্র ৫-৭ জনের হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হয়। নতুন দুটি হাসপাতাল চালু হওয়ায় শয্যা সমস্যার আপাতত সমাধান হতে চলেছে বলে জানান তিনি।