‘বন্দিদশা’ থেকে মুক্তি চেয়েছেন পাকিস্তানের পরমাণু বিজ্ঞানী আবদুল কাদির খান। স্বাধীনভাবে চলাফেরার অনুমতি চেয়ে দেশটির সর্বোচ্চ আদালতে আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
আল জাজিরা জানায়, পাকিস্তানের বিভিন্ন সরকারি সংস্থার নজরদারির মধ্যে তাকে ‘বন্দি’ করে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন এই পরমাণু বিজ্ঞানী।
পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র কার্যক্রমের জনক বলা হয়ে থাকে আবদুল কাদির খানকে ।
কারাবন্দি না হলেও এক ধরনের বন্দিদশার মধ্যে রাখা হয়েছে তাকে। তার জীবনযাপনে আরোপ করা হয়েছে কঠোর নিয়ন্ত্রণ।
এমন পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার দেশটির সুপ্রিম কোর্ট বরাবর পাঠানো হাতে লেখা এক নোটে বন্দীদশা থেকে মুক্তির আবেদন জানান এই পাক বিজ্ঞানী। তিনি তাতে উল্লেখ করেন, ‘আমাকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। আমার চলাফেলা করার স্বাধীনতা নেই।’
যদিও কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, নিরাপত্তার খাতিরেই তাকে ‘কঠোর নিরাপত্তায়’ রাখা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, আবদুল কাদির খানের তত্ত্বাবধানে ১৯৯৮ সালে প্রথম নিজেদের তৈরি পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষামূলক বিস্ফোরণ ঘটিয়ে প্রতিবেশী ভারতের পরীক্ষার জবাব দেয় পাকিস্তান। সেইসঙ্গে পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে নাম লেখায় দেশটি।
২০০৪ সালে বিশ্বজুড়ে পরমাণবিক অস্ত্র বিস্তারে নিজের ভূমিকার কথা স্বীকার করেন আবদুল কাদির খান। এর ফলে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়।
পরবর্তীতে দেশটির তৎকালীন প্রেসিডেন্ট পারভেজ মোশাররফের ক্ষমা পেয়ে কারাগারে যাওয়া থেকে রক্ষা পান তিনি। তবে তাকে নজরবন্দি করে রাখে পাক সরকার।
ধারণা করা হয়, ৮৪ বছর বয়সী এই বিজ্ঞানী ইরান, লিবিয়া ও উত্তর কোরিয়ায় পরমাণু অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম জোগান দিয়েছিলেন।