ভারতের সেভেন সিস্টার্স নামে পরিচিত উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে সক্রিয় বিভিন্ন সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর অন্তত ২২জন নেতাকে দিল্লির হাতে তুলে দিয়েছে প্রতিবেশী মিয়ানমার।
বিবিসি জানায়, বৃহস্পতিবার বিকালে আকাশপথে ইম্ফল বিমানবন্দরে নিয়ে আসা হয় এসব বিদ্রোহী নেতাদের। এতদিন মিয়ানমারে ঘাঁটি গেড়ে ছিলেন তারা।
এই মুহুর্তে ওই নেতাদের আসামের রাজধানী গুয়াহাটির একটি হোটেলে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। তাদের নমুনা সংগ্রহ করে কভিড পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
এই প্রথমবারের মতো মিয়ানমার ভারতকে এ ধরনের সহযোগিতা করল। এর আগে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলির নেতাদের ধরার ক্ষেত্রে ভারত প্রতিবেশী ভুটান ও বাংলাদেশের সক্রিয় সহযোগিতা পেলেও মিয়ানমারের কাছ থেকে এই ধরনের সাহায্য কিন্তু আগে পাওয়া যায়নি।
নাগাল্যান্ড ও মণিপুরের বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো বহুদিন ধরেই সীমান্ত লাগোয়া মিয়ানমারের পাহাড় ও গহীন জঙ্গলগুলোকে নিজেদের ঘাঁটি ও প্রশিক্ষণ শিবির হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।
এক সময় মিয়ানমার সরকার ভারতের সীমান্তঘেঁষা এলাকায় প্রশাসন চালানোর জন্য নাগা বিদ্রোহী গোষ্ঠী এনএসসিএন (খাপলাং) এর সঙ্গে একটি সমঝোতাও সই করেছিল, যদিও এনএসসিএন (খাপলাং) তখন ভারতে পুরোপুরি একটি নিষিদ্ধ সংগঠন।
কিন্তু গত বছরের গোড়া থেকে এই ছবিটা পাল্টাতে শুরু করে। এনএসসিএন (খাপলাং) গোষ্ঠীর প্রধান এস এস খাপলাংর মৃত্যুর পর ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সাগায়িং অঞ্চলে ওই গোষ্ঠীর সদর দফতর দখল করে নেয়।
তার ঠিক আগের মাসেই সীমান্ত এলাকায় অভিযান চালিয়ে তারা আসাম, মণিপুর ও নাগাল্যান্ডের ২৪জন বিদ্রোহী নেতাকে আটক করে। পরে সে দেশের হকামটি জেলার আদালত তাদের প্রত্যেককে দুবছরের কারাদন্ডও দেয়।
সেসব বন্দী নেতাদের ২২ জনকে ভারতের মণিপুর পুলিশের হাতে তুলে দেয় মিয়ানমার। পরে সড়কপথে তাদের নিয়ে আসা হয় আসামে।
পর্যবেক্ষকরা ধারণা করছেন, এই পদক্ষেপ ভারত ও মিয়ানমারের মধ্যে ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠতারই আরেকটি প্রমাণ। রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত যে মিয়ানমারকে কখনওই তেমন চাপ প্রয়োগ করবে না তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত এটি।