হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে ক্লাবগুলো

দেরিতে হলেও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের লিগ পরিত্যক্ত ও মৌসুম সমাপ্তির ঘোষণায় হাঁফ ছেড়ে বেঁচেছে বেশিরভাগ ক্লাব। করোনার প্রাদুর্ভাবে এমনিতেই চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে কাটছিল ক্লাবগুলোর। তার ওপর গলার কাঁটা হয়েছিল অমীমাংসিত প্রিমিয়ার লিগ। সিদ্ধান্ত না আসায় ফুটবলার ছাড়তেও পারছিল না, আবার ক্যাম্প চালিয়ে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছিল। বিশেষ করে বিদেশি ফুটবলারদের বসিয়ে বসিয়ে বেতন দেওয়া ছিল বড় কষ্টের। বাফুফের এই সিদ্ধান্তে অন্তত কিছু কিছু সংকট থেকে মুক্তি মিলেছে ক্লাব কর্তাদের। তবে কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয়ে বাফুফে কোনো সিদ্ধান্ত না দেওয়ায় খানিকটা অস্বস্তি থেকেই যাচ্ছে ক্লাব ও ফুটবলারদের মধ্যে।

২০১৯-২০২০ মৌসুমটা ফেডারেশন কাপ আর লিগের এক-চতুর্থাংশের মধ্যেই শেষ হলো। কোনো কোনো ক্লাব খেলেছে ৬টি করে ম্যাচ, বাকিগুলো ৫টি করে। যে কারণে লিগে কাউকে চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করার সুযোগ ছিল না। অথচ ক্লাবগুলো ফুটবলারদের সঙ্গে চুক্তি করেছে পুরো মৌসুমের জন্য। সে চুক্তি অনুযায়ী উপরসারির তিন-চারটা ক্লাব ফুটবলারদের ৮০ থেকে ৯০ ভাগ বেতন দিয়ে দিয়েছে। বাকি ক্লাবগুলো দিয়েছে ৪০ থেকে ৫০ ভাগ। এ অবস্থায় ক্লাবগুলো দাবি করেছে দলবদল না দিয়ে পুরনো ফুটবলারদের দিয়েই নতুন মৌসুমে খেলাতে। ফুটবলাররা আবার এটা মানতে নারাজ। তাদের কথা চুক্তির অর্ধেকের বেশি সময় তারা কাটিয়ে ফেলেছে। বাফুফেও মৌসুম সমাপ্তি ঘোষণা করেছে। তার মানে যা হবে সব নতুন করে। তো, এই নতুন করে শুরুটার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ বাফুফে দেয়নি। ক্লাব-ফুটবলার সমস্যার সমাধানও তারা বাতলে দেয়নি। এগুলো নিয়ে খানিকটা অসন্তোষ রয়েছে ক্লাব কর্তাদের মধ্যে। তবে লিগ বাতিলের সিদ্ধান্তে তারা কমবেশি সবাই খুশি।

গতবারের চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসের সভাপতি ইমরুল হাসান বলেন, ‘বাস্তবতা বিবেচনায় যৌক্তিক সিদ্ধান্ত। কারণ তিন-চারটি ক্লাব বাদে বাকিদের পক্ষে করোনাকালে ক্যাম্প খরচ ওঠানোই কঠিন। কোনো ব্যবসায়ী এখন এই কারণে টাকা দেবে না ক্লাবগুলোকে। তবে আশা করেছিলাম কিছু সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দেবে বাফুফে। ফুটবলারদের সঙ্গে ক্লাবগুলোর মধ্যে কী মধ্যস্থতা হবে, তা নিয়ে অন্ধকার থেকেই গেল।’ আবাহনী লিমিটেডের ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রুপু করোনা পরিস্থিতি বিবেচনায় সহসা বল মাঠে গড়ানোর সুযোগ দেখছেন না, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যত দ্রুত খেলা শুরু হবে কিংবা পরের মৌসুম শুরু হবে, ততই সব পক্ষের ক্ষতির পরিমাণ কমবে। খেলা না হওয়ায় সবাই ক্ষতিগ্রস্ত। সুতরাং এটা মেনেই সবাইকে সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে।’ চট্টগ্রাম আবাহনীর ম্যানেজার আরমান আজিজ জানালেন, বাফুফের এই সিদ্ধান্ত তাদের জন্য সুযোগ করে দিয়েছে বিদেশি ফুটবলারদের সঙ্গে আলোচনার, ‘এই সিদ্ধান্ত হওয়ায় আমরা এখন বিদেশিদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করতে পারছি। তারাই সার্বিক পরিস্থিতি বুঝতে পারছে। টাকা-পয়সা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। তারাও বেশ আন্তরিক। বাফুফে এই সিদ্ধান্তটি আরও একমাস আগে দিলে আমাদের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কমত।’  মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রের কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম বাফুফেকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘করোনার প্রভাব কেবল পড়তে শুরু করেছে, আগামী দলবদলে তা প্রকট হয়ে দেখা দিতে পারে।’