ঘূর্ণিঝড় আম্পান: লক্ষ্মীপুরে নদী তীরবর্তীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হচ্ছে

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় আম্পান শক্তিশালী হয়ে ক্রমশ উপকূলের দিকে ধেয়ে আসছে। এর প্রভাবে মেঘনা নদী উপকূলীয় জেলা লক্ষ্মীপুরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।

তীব্র গরম আর গুমোট আবহাওয়ার কারণে মঙ্গলবার জেলার সর্বত্র প্রচণ্ড তাপদাহ অব্যাহত রয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় দফায় দফায় প্রস্তুতিমূলক সভা করা হয়েছে।

কমলনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মোবারক হোসেন বলেন, জেলে ও নদী তীরবর্তী মানুষদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনা হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করা হয়েছে। প্রস্তুত রাখা হয়েছে আশ্রয়কেন্দ্রগুলো। শুকনো খাবার, মেডিকেল টিমসহ প্রয়োজনীয় সবকিছুর ব্যবস্থা করা হয়েছে। নির্দেশনা উপেক্ষা করে কেউ নদীতে থাকলে, তাদের দ্রুত তীরে সরিয়ে আনার জন্য কোস্টগার্ডকে নির্দেশনা দেওয়া হবে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় ২শ আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। মানুষ যাতে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে থাকতে পারে সে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, এবং পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুদ করা হয়েছে। দুর্যোগ পরবর্তী সময়ে রাস্তাঘাট ও বিদ্যুৎ ব্যবস্থা ঠিক রাখার জন্য ফায়ার সার্ভিস ও বিদ্যুৎ বিভাগকে বলা হয়েছে।

সিভিল সার্জন ডা. আবদুল গফ্ফার জানান, ঘূর্ণিঝড়কালীন ও পরবর্তী চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে সরকারি বেসরকারি সকল হাসপাতালের জরুরি বিভাগকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মরত সকলের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। গঠন করা হয়েছে ৬৬টি মেডিকেল টিম। সরকারি-বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কোথাও না যাওয়ার জন্য নিষেধ করা হয়েছে। মাঠ পর্যায়ের সকল কর্মরতদের আশ্রয় কেন্দ্র-কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য উপকেন্দ্রের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করতে বলা হয়েছে।