ঘূর্ণিঝড় আম্পান মোকাবিলায় চট্টগ্রামে প্রস্তুত ৪০৪৬ আশ্রয়কেন্দ্র

ঘূর্ণিঝড় আম্পান মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম নগরসহ জেলার ১৫টি উপজেলায় ৪ হাজার ৪৬টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। এরমধ্যে ১ হাজার ৭৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র খুলে দেয়া হয়েছে। সেখানে মঙ্গলবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত ৬ হাজারের বেশি লোক আশ্রয় গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াস হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আম্পান মোকাবিলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের পাশাপাশি সিপিপির ৬ হাজার ৬৬০ ভলান্টিয়ার, রেডক্রিসেন্টের ৮ হাজার ভলান্টিয়ার এবং ৩৬০ স্কাউটস সদস্য কাজ শুরু করেছেন।

উপকূলীয় এলাকা থেকে লোকজনকে সরিয়ে আনা হচ্ছে। উপকূলবাসীদের সতর্ক করতে মাইকিং অব্যাহত রয়েছে। এর বাইরে মেডিক্যাল টিম গঠন করা হয়েছে ২৮৪টি। তাদের কাছে প্রচুর পরিমাণে চিকিৎসা সরঞ্জাম ও ২ লাখ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট মজুত রয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের কাছে ১ লাখ ৪০ হাজার পিস পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট রয়েছে।

এছাড়া চট্টগ্রামের কুমিরা ঘাঁট হতে সন্ধীপ ও হাতিয়ায় নৌ চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে সকল জাহাজ ও ট্রলার নিরাপদ আশ্রয়ে নেয়া হয়েছে।

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম নগরসহ উপকূলীয় এলাকায় ঘূর্ণিঝড় আম্পান মোকাবিলায় ইতোমধ্যে খুলে দেয়া ১৭৭০টি আশ্রয়কেন্দ্র। এর মধ্যে ৫২৭টি বিদ্যমান আশ্রয়কেন্দ্র, ১২৪৩টি স্কুল। করোনা আক্রান্ত রাগী, আইসোলেশনে থাকা ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষকে আলাদা আলাদা আশ্রয়কেন্দ্রে রাখার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। গর্ভবতী নারী ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের আলাদা রুমে রাখা হবে। সেখানে করোনা মোকাবিলায় সামাজিক দূরত্ব মেনে সকলে অবস্থান করবেন।  

জেলা প্রশাসনের তথ্যানুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় আম্পান মোকাবিলায় চট্টগ্রাম নগরসহ জেলার ১৫টি উপজেলায় খুলে দেয়া ১৭৭০টি আশ্রয়কেন্দ্রের মধ্যে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এলাকায় রয়েছে ১১২টি, মিরসরাই উপজেলায় ১৬২টি, সীতাকুণ্ডে ৫৯টি, ফটিকছড়িতে ৬১টি, সন্দ্বীপে ১৬২টি, রাউজানে ৪৭টি, হাটহাজারীতে ১৮টি, রাঙ্গুনিয়ায় ২২৩টি, বোয়ালখালীতে ৮টি, পটিয়ায় ১৯৫টি, আনোয়ারায় ৫৮টি, কর্ণফুলীতে ১৩টি, চন্দনাইশে ৫৩টি, সাতকানিয়ায় ২২৮টি, লোহাগাড়ায় ১৫৮টি, বাঁশখালী উপজেলায় ২১৩টি।

এদিকে, ঘূর্ণিঝড় আম্পানের তাণ্ডব থেকে লোকজনকে নিরাপদে রাখতে চট্টগ্রামের মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক স্তরের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিজ নিজ কর্মস্থলে সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছে চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ড। পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত এ আদেশ কার্যকর থাকবে বলে বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন। মঙ্গলবার বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক প্রদীপ চক্রবর্তী এই আদেশ দিয়েছেন।

চট্টগ্রামে খোলা হয়েছে যত কন্ট্রোল রুম

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। যার নম্বর হল-৬১১৫৪৫ এবং ১০৭০০-৭১৬৬৯১। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনও নিজস্ব প্রস্তুতি নিয়ে খুলেছে কন্ট্রোল রুম। চসিকের কন্ট্রোল রুমের নম্বরগুলো হলো-০৩১-৬৩০৭৩৯, ০৩১-৬৩৩৬৪৯। এছাড়াও দুর্যোগপূর্ণ মুহূর্তে উপকূলবাসীকে নিরাপদে সরিয়ে আনতে সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে চসিক। চট্টগ্রাম বন্দরে খোলা হয়েছে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ। যার নম্বরগুলো হল-০৩১-৭২৬৯১৬, ০৩১-২৫১৭৭১১ এবং ০১৭৫১৭১৩০৩৭। চট্টগ্রাম শিক্ষাবোর্ডে খোলা হয়েছে কন্ট্রোল রুম। যার নাম্বারগুলো হল-০১৯১৩০২০৭৪৩, ০১৯৮১৫৬২৩৫৮, ০১৫৫৪৩৩৩৫৪০, ০১৮১৯৬০৪৯১৫, ০১৭২১২৯৬৪১২।