দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে কম হবে কার্বন নিঃসরণ

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে বিশ্ব প্রায় থমকে গেলেও এই অচলাবস্থা শাপে বর হয়েছে বৈশ্বিক উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণের জন্য। ব্যাপক হারে কমে এসেছে বায়ু দূষণের অন্যতম নিয়ামক কার্বনডাই-অক্সাইড নিঃসরণ। গবেষকেরা বলছেন, চলতি বছরে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে কার্বন নিঃসরণ কমতে পারে ৭ শতাংশ পর্যন্ত, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সবচেয়ে কম!

মঙ্গলবার প্রকাশিত কার্বন নিঃসরণ গবেষণা প্রতিবেদনে ‘নেচার ক্লাইমেট চেঞ্জ’ এ তথ্য তুলে ধরা হয় বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। কিন্তু কার্বন নিঃসরণ ব্যাপক হারে কমে আসলেও তা দীর্ঘ মেয়াদে বৈশ্বিক উষ্ণতা বা দূষণ রোধ করতে পারবে বলে মনে করেন না গবেষকেরা।

মহামারির কারণে কার্বন নিঃসরণের কেমন প্রভাব পড়েছে তা নিয়ে ‘নেচার ক্লাইমেট চেঞ্জ’ এর করা প্রথম মূল্যায়নে দেখা গেছে, চলতি বছরের এপ্রিলে গত বছরের এই সময়ের তুলনায় ১৭ শতাংশ কম কার্বন নিঃসরণ হয়েছে।

কার্বন নিঃসরণের অগ্রগামী চারটি দেশ বা ব্লক- চীন, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ভারত চলতি বছরের প্রথম চার মাসে আগের বছরের তুলনায় দুই-তৃতীয়াংশ কম কার্বন নিঃসরণ করেছে, যা এক বিলিয়ন টনেরও বেশি।

শিল্প ও এনার্জি সেক্টরে গত বছর রেকর্ড ৩৭ বিলিয়ন টন কার্বন নিঃসরিত হয়েছিল। সে তুলনায় চলতি বছরের এখন পর্যন্ত কার্বনের পরিমাণ অনেক কম।

এ ব্যাপারে প্রধান গবেষক ইউনিভার্সিটি অব ইস্ট অ্যাঞ্জেলিয়ার টিনডাল সেন্টার ক্লাইমেট চেঞ্জ রিসার্চের অধ্যাপক করিনে লে কুয়েরে বলেন, “জনসাধারণের চলমান বন্দিদশাই এনার্জি ব্যবহার ও কার্বন নিঃসরণের পরিমাণে ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে।”

“তবে এই ধরনের ব্যাপক পরিবর্তন সম্ভবত অস্থায়ী হবে। এসব অর্থনীতি, পরিবহন ব্যবস্থা বা এনার্জি সিস্টেমে কোনো কাঠামোগত পরিবর্তন আনবে না।”

লে কুয়েরে ও তার অধীনে থাকা গবেষকদের অনুমান, মহামারি কেটে গেলে জুনের মাঝামাঝির দিকে অর্থনৈতিক ক্ষতি পুষিয়ে নিতে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হলে ২০২০ সালে কার্বনডাই-অক্সাইড নিঃসরণ কমবে মাত্র ৪ শতাংশ। আর যদি বছর জুড়েই লকডাউন থাকে তাহলে কমে দাঁড়াতে পারে ৭ শতাংশ।

এরপরও বৈশ্বিক উষ্ণতার বিষয়টি হুমকি হিসেবেই থাকবে বলে সতর্কতা উচ্চারণ করেছেন গবেষকেরা। ব্রিটেনের মেট অফিস হ্যাডলি সেন্টারের জলবায়ুর প্রভাব বিষয়ক গবেষণার প্রধান রিচার্ড বেটস বলেন, “কার্বন-ডাইঅক্সাইড নিঃসরণের ফলে বায়ুমণ্ডলে চলমান ক্ষত এটা কমাতে পারবে বলে মনে হয় না।”

“ব্যাপারটা একটা বাথ টাব পূর্ণ করার মতো। আমরা টেপটা অল্প করে চালু রেখেছি বটে কিন্তু পুরোপুরি বন্ধ করিনি। পানি কিন্তু বাড়ছেই, কিন্তু দ্রুতগতিতে বাড়ছে না।”

বিশ্বজুড়ে ব্যাপক শিল্পায়নের ফলে পৃথিবী পৃষ্ঠে উষ্ণতা বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে। এরই মধ্যে তাপমাত্রা প্রাক-শিল্প যুগের চেয়ে এক ডিগ্রি বেশি বেড়ে যাওয়ায় তা বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ খরা, তাপপ্রবাহ এবং সমুদ্রের উচ্চতা বাড়ায় সুপারস্ট্রোমের কারণ হতে পারে বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ।

অবস্থা নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্যারিস ক্লাইমেট ট্রিটি ২০১৫ অনুযায়ী, বৈশ্বিক উষ্ণতা ‘২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামানোর’ ব্যাপারে একমত হয়েছিল প্রায় ২০০টি দেশ।