ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ ক্রমশ শক্তিশালী হয়ে ধেয়ে আসছে উপকূলের দিকে। এরই মধ্যে জারি করা হয়েছে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত। সংকেত ঘোষণার পরপরই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে বেড়িবাঁধের বাইরে নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় দুই লাখ মানুষ।
এদিকে জনসাধারণকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি বে-সরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের পক্ষ থেকে জোর প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
বরগুনায় আম্পান আঘাত হানার ফলে যে জায়গাগুলো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে বরগুনা সদর উপজেলার- নলটোনা,বালিয়াতলী, বদরখালী, নিশানবাড়িয়া, বড়ইতলা, মাঝেরচর, গুলিশাখালী, আয়লা পাতাকাটা, বুড়িরচর।
বেতাগী উপজেলার দক্ষিণ কালিকাবাড়ি, আলিয়াবাদ, উত্তর কালিকাবাড়ি, ভোড়া। আমতলী উপজেলার- বৈঠাকাটা, পশুরবুনিয়া, জেলে পাড়া, কলাগাছিয়া, আমতলী পৌরসভার আম্মুয়ার চর।
তালতলী উপজেলার- খোটকারচর, তেতুলবাড়িয়া, নলবুনিয়া, আশারচর, সখিনা ও আমখোলা, পাথরঘাটা উপজেলার- কাকচিড়া ইউনিয়নের, কাকচিড়া। বামনা উপজেলার- রামনা, তালেশ্বর এলাকার মানুষ জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হওয়ার আতঙ্ক রয়েছে। এসব এলাকায় প্রায় ২ লাখ মানুষ মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে আছে। বেড়িবাঁধের বাইরে আশ্রায়ণ প্রকল্পের বসবাসরত লোকজন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় আম্পানের প্রভাবে সকাল থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। সাথে রয়েছে দমকা হাওয়া।
দুর্যোগ মোকাবিলায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ৬১০টি আশ্রয়কেন্দ্র, ৪২টি মেডিকেল টিম, ৮টি জরুরি কন্ট্রেলা রুম খোলা হয়েছে।
পোটকাখালী আশ্রয়ন প্রকল্পের বাসিন্দা কামাল বলেন, প্রতিবছরই কোনো না কোনো দুর্যোগের মধ্যে পড়তে হয় আমাদের। সারা বছরই আমরা ঝুঁকির মধ্যে থাকি।
দুর্যোগ প্রস্তুতি কর্মসূচি (সিপিপি) বরগুনা সদর উপজেলার টিম লিডার জাকির হোসেন মিরাজ বলেন, বরগুনা সদরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সিপিপির সদস্যরা মাইকিং করে মানুষজন আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে যাচ্ছে। দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের পাশাপাশি সিপিপির কর্মীরা তৎপর রয়েছে।
বরগুনার জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, ঘূর্ণিঝড় আম্পান মোকাবিলায় আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি।
জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ সিপিপি, রেডক্রিসেন্ট কর্মীরা ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষজনকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিতে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। দুর্যোগ আঘাত হানার আগেই বেড়িবাঁধের বাইরের লোকজনকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, শুধু জেলা প্রশাসনই নয় স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তারা সকল মানুষকে আশ্রয় কেন্দ্রে নিয়ে আসবে।