কারখানা ভাঙচুরে নিন্দা-প্রতিবাদ বিজিএমইএ-বিকেএমইএ’র

তৈরি পোশাক কারখানা ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে পোশাক মালিকদের বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ।

বুধবার এক  যৌথ বিবৃতিতে বিজিএমইএ সভাপতি ড. রুবানা হক ও বিকেএমইএ সভাপতি এ.কে.এম সেলিম ওসমান  এ প্রতিবাদ জানান।

তারা বলেন, ঈদকে সামনে রেখে গত কয়েক দিন ধরে বেতন-ভাতা আন্দোলনের নামে যেভাবে পোশাক কারখানা ভাঙচুর করা হচ্ছে, তাতে রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাক শিল্পে গভীর উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে।

তাদের দাবি, বৈশ্বিক সমস্যা কভিড-১৯ এর প্রভাবে যখন সমগ্র বিশ্ব অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি নড়ে গেছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে দেশের প্রধান রপ্তানিখাত তৈরি পোশাক শিল্পখাতও বিপর্যস্ত।

বিবৃতিতে বলা হয়, ক্রেতারা একের পর এক ক্রয়াদেশ বাতিল করছেন। এমনকি অনেক ক্রেতা দেউলিয়াও হয়ে যাচ্ছেন।

এতে বলা হয়, ঠিক এরকম একটি স্পর্শকাতর সময়ে শ্রমিকদের সরলতার সুযোগ নিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাদেরকে ব্যবহার করে শিল্পে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির অপতৎপরতায় লিপ্ত রয়েছে, যা মোটেও কাম্য নয়। এই আন্দোলনে অনুপ্রবেশকারীরাও রয়েছেন, যারা প্রকৃত শ্রমিক নন।

বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র ভাষ্য, ছোট ও মাঝারি কারখানার পাশাপাশি বড় বড় কমপ্লায়েন্ট পোশাক কারখানা, যাদের কর্মপরিবেশ ভালো, বেতন ভাতাও নিয়মিত পরিশোধ করা হয়, সেগুলোও আন্দোলনের নামে ভাঙচুর করে শিল্পের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করা হচ্ছে।

এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে উদ্যোক্তা সৃষ্টি ও বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হবে উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ এই অরাজকতা রোধে সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।

এতে আরও বলা হয়, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ মনে করে, বর্তমান সংকটময় মুহূর্তে বেতন-বোনাস ইস্যুতে কারখানা ভাঙচুর করার যৌক্তিকতা নেই। কারণ, সরকার, মালিক ও শ্রমিক ত্রি-পক্ষীয় সিদ্ধান্তের আলোকে কারখানাগুলো সংকটের মধ্যে থেকেই আপ্রাণ চেষ্টা করে বেতন-ভাতা পরিশোধ করছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, কিছু কিছু কারখানায় অবশ্য ব্যত্যয় ঘটছে। কারণ, এই কারখানাগুলোর অনেকেরই হাতে এখন কোনও কাজ নেই। তারপরও, কারখানাগুলো এ বিষয়ে তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।