করোনা পরিস্থিতিতে ধীরে ধীরে লকডাউন শিথিল করে সাধারণ মানুষকে কাজে কর্মে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের।
বুধবার দুপুরে রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন পৌরসভার কেরাব এলাকায় কেন্দ্রীয় জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল ইসলামের অর্থায়নে ৪ হাজার দুস্থ পরিবারের মাঝে ত্রাণ বিতরণকালে তিনি এ কথা বলেন।
জিএম কাদের বলেন, দেশে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে যখন এক জনের কাছ থেকে আর একজনকে দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। আমাদেরকে ঘরে বসে থাকতে হবে। আমাদের দেশের জনসংখ্যা এতোই বেশি যে আমরা ইচ্ছা করলেও দূরে দূরে থাকতে পারি না।
সাধারণ মানুষের অবস্থা এমন যে একদিন কাজ না করলে দুইদিন না খেয়ে থাকতে হয়। সাধারণ মানুষকে কাজে কর্মে থেকে দূরে রাখা অথবা একজনের কাছ থেকে আরেক জনকে দূরে রাখা এতো সহজ বিষয় নয়।
আমাদের দেশের অবস্থা বিবেচনা করে দূরত্বের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা উচিত বলে আমি মনে করি। এ অবস্থায় সাধারণ মানুষকে সমস্ত কাজকর্ম ও জীবিকা অর্জনের সুযোগ করে দেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, আমরা দেশের বিভিন্ন স্থানে ত্রাণ নিয়ে অনেক অনিয়মের খবর আমরা পাচ্ছি। আমরা প্রতিবাদ জানাচ্ছি সরকার ব্যবস্থা নিচ্ছে। করোনাকালীন দুর্দিনের সারা বিশ্ব যখন আতঙ্কগ্রস্ত। সাধারণ দরিদ্র মানুষ খাবার না পেয়ে বিভিন্নভাবে না খেয়ে অনাহারে দিন কাটাচ্ছে। আর সেখানে দুস্থ মানুষগুলোর ত্রাণসামগ্রী ও নগদ অর্থ নিয়ে যারা কারচুপি করছে তাদের চেয়ে বড় ধরনের অপরাধী আর কেউ হতে পারে না। তাদের শুধু বরখাস্ত নয় তাদের কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত।
এ করোনা পরিস্থিতিতে আমরা জাতীয় পার্টি দেশ ও জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছি।
জাপা চেয়ারম্যান বলেন, আমরা জাতীয় পার্টির তরফ থেকে ডাক্তারদের ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম পোশাক, মাস্ক ও গ্লাভস ইত্যাদি প্রদান করেছি। এভাবেই আমরা দেশের জনগণের সেবায় কাজ করে যাচ্ছি। আপনারা কৃষককে ধান কাটতে সহযোগিতা করুন। আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছি আমরা সাংগঠনিকভাবে সম্পূর্ণ প্রস্তুত আছি।
দেশের এ পরিস্থিতিতে আমরা সরকারকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে চাই।
এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও বিরোধী দলীয় চিপ হুইপ মশিউর রহমান রাঙ্গা, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য হাজী সাইফুদ্দিন আহমেদ মিলন, জাপা চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মনিরুল ইসলাম মিলন, হাসিবুল ইসলাম জয়, প্রচার সম্পাদক মাসুদুর রহমান মাসুম, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক মো. জহিরুল ইসলাম মিলন প্রমুখ।