গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী (অঞ্চল-৪) দেলোয়ার হোসেন। ২৮ ফেব্রুয়ারি নিজের ফেসবুক আইডিতে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন দেলোয়ার। সেখানে লিখেছিলেন, ‘আমার দুটো ভালো লাগার জায়গা আছে, যেখানে আমি বুক ভরে নিশ্বাস নিতে পারি। এর মধ্যে একটি বুয়েট ক্যাম্পাস, অন্যটি বাংলা একাডেমি। আজকে দ্বিতীয়টিতে এসেছি।’
এর সঙ্গে দিয়েছিলেন কিছু ছবি। এসব ছবি আর স্ট্যাটাসই এখন সম্বল তার দুই ছেলে ও স্ত্রীর।
১১ মে রাজধানীর মিরপুরের বাসা থেকে কর্মস্থলে যাওয়ার পর খুন হন দেলোয়ার হোসেন। ওই দিন বেলা ৩টার দিকে উত্তরার ১৭ নম্বর সেক্টরের একটি খালি প্লট থেকে তার লাশ উদ্ধার হয়।
দেলোয়ারের স্ত্রী খাদিজা বেগম। আর তার দুই ছেলের সঙ্গী এখন বাবার স্মৃতি। ছেলেরা ভেঙে পড়লে মা সান্ত্বনা দেন। মা ভেঙে পড়লে এগিয়ে আসে ছেলেরা।
বড় ছেলে মাসফিকুর সালেহীন বলেন, ‘বাবার কথা মনে পড়তেই আম্মু ভেঙে পড়েন, তখন আমি সান্ত্বনা দিই। আবার আমাদের খারাপ লাগলে আম্মু আমাদের সান্ত্বনা দেন। এভাবেই বেঁচে আছি।’
খদিজা জানান, দেলোয়ারের সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল ১৯৯৭ সালে। বিয়ের ২৩ বছর পার হয়েছে ইতিমধ্যে। মাঝে কোনো একদিন ফেইসবুকের পাতায় এক যুগলকে ধুমধাম করে বিয়ের ৫০ বছর পূর্তি উদ্যাপন করতে দেখেন তিনি। সেই থেকে স্ত্রী খোদেজাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখেন ৫০ বছর পাড়ি দেওয়ার। কথা ছিল, ৫০ বছর পূর্তিতেও তারাও ধুমধাম আয়োজন করবেন। পুরো পরিবার নিয়ে ঘুরতে যাবেন দূরে কোথাও।
সেই স্বপ্ন আর পূরণ হবে না কখনো। বুকভরা বেদনা নিয়েই কাটবে তাদের দিন।
হত্যার ঘটনায় খাদিজা তুরাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
প্রকৌশলী দেলোয়ার হত্যায় তিনজন গ্রেপ্তার হলেও কেন তাকে হত্যা করা হয়েছে, সে বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই বলছে না। তবে তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, দেলোয়ার হোসেন সৎ কর্মকর্তা ছিলেন। সিটি করপোরেশনে নিম্নমানের উন্নয়নকাজ করায় তিনি বেশ কয়েকজন ঠিকাদারের অন্তত শতকোটি টাকার বিল আটকে দিয়েছিলেন। এ কারণেই শক্তিশালী একটি সিন্ডিকেট তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে এবং তা বাস্তবায়ন করে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের শীর্ষ কর্তাদের যোগসাজশ থাকতে পারে বলেও তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আভাস দিয়েছেন।