গ্যাংস অব ওয়াসিপুরের খ্যাতিতে সে আমাকে ভুলে গেল: নওয়াজের স্ত্রী

বলিউড অভিনেতা নওয়াজুদ্দিন সিদ্দিকী এবং তার স্ত্রী আলিয়ার বিচ্ছেদের খবর নিয়ে সরগরম ভারতীয় ফিল্মপাড়া। স্ত্রী আলিয়ার আইনজীবীই প্রথম খবরটা জানিয়েছিলেন সংবাদমাধ্যমকে। 

বিচ্ছেদের কারণ নিয়ে শুরুতে কিছু জানাতে রাজি না হলেও অবশেষে মুখ খুলেছেন আলিয়া।  মুম্বাইয়ের 'স্পটবয়' পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নওয়াজউদ্দীনের বিরুদ্ধে তার অভিযোগ তুলে ধরেন তিনি।

আলিয়া বলেন, নওয়াজের সঙ্গে বিচ্ছেদের হাজারটা কারণ রয়েছে। সারা জীবন সে আমাকে অপমান করে গিয়েছে। ‘গ্যাংস অব ওয়াসিপুর’ ছবির পর হঠাৎ করেই ওর নামডাক হতে শুরু করে। এর পরেই আমার প্রতি ওর আচরণ বদলে যেতে থাকে। 

তিনি বলেন, আমরা যখন বিয়ে করি তখন নওয়াজের কিছুই ছিল না। আমার পয়সায় ঘর ভাড়া নিয়েছিলাম আমরা। এখন ওর চারটা বাংলো হয়েছে, কিন্তু একটা সময় কী ছিল ওর? আজ সব ভুলে গিয়েছে সে।

আলিয়া আরও বলেন, আমার সন্তানের তখন ছয় মাস বয়স। পাটলিপুত্রতে প্রায় এক বছরের মতো সময় ধরে একা ছিলাম আমি। আমি ওকে বিয়ে করেছিলাম বলে আমার পরিবারও আমার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেছিল। আমি আর এবং নওয়াজ দু’জনেই ভিন্ন ধর্মের। আমার আসল নাম অঞ্জনা কিশোর পাণ্ডে। 

প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে আলিয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় নওয়াজের। তাদের দুইটি সন্তান রয়েছে। 

নওয়াজের বিরুদ্ধে নারীঘটিত অভিযোগ আনেন তিনি। তার ভাষ্য, আমি বাইরে বেরলেই সে নারী বন্ধুদের নিয়ে বাড়িতে ঢুকত।  এ তো গেল আমার কথা। বাবা হিসেবেও কোনও দায়িত্ব পালন করেনি নওয়াজ। একা একা সন্তানের জন্ম দিয়েছি। তিন-চার মাসে একবার ফোন করত আমাদের। এবং তাও অফিসের নম্বর থেকে। কিছু বললে বলত, আউটডোর শুটিংয়ে রয়েছি।

এ দিকে বিচ্ছেদের খবর পর থেকে এখন পর্যন্ত মুখ খোলেননি নওয়াজ। তবে তার সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি ‘ঘুমকেতু’-তে ব্যক্তিগত জীবনের গল্প বেশ প্রভাব ফেলেছে সে কথা এক সংবাদমাধ্যমের কাছে নিজেই স্বীকার করেছেন নওয়াজ।  

তবে আলিয়া ডিভোর্সের নোটিস পাঠালেও এখনও পর্যন্ত সে চিঠির কোনও জবাব দেননি নওয়াজ, এমনটা জানা গেছে।