রাজধানীর গুলশানে বেসরকারি ইউনাইটেড হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে বুধবার রাতে অগ্নিকাণ্ডে ৫ জনের মৃত্যুর ঘটনা পৃথক তদন্ত করবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, গুলশান বিভাগের পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা সুলতানা বলেন, ঘটনাটি নিশ্চয়ই তদন্ত করা হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের নিয়ে কমিটি করা হবে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ইউনাইটেড হাসপাতালে করোনা রোগীদের চিকিৎসার জন্য পৃথক আইসোলেশন ইউনিট খোলার অনুমতি দেয়।
এদিকে ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন আগুন নেভানোর পর বলেছেন, ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে কাজ করে তা নিয়ন্ত্রণে আনে। মূল ভবনের বাইরে করোনা আইসোলেশন ইউনিটে (তাঁবু গেড়ে স্থাপিত) আগুন মাত্র ১০ মিনিট স্থায়ী হলেও এতে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা গেছেন পাঁচজন।
তিনি আরো বলেন, অগ্নিকাণ্ডের কারণ নির্ণয়, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ, অগ্নিকাণ্ড নির্বাপণের সরঞ্জাম ছিল কিনা এসব জানতে একটি তদন্ত কমিটি করেছেন তারা।
অপর দিকে পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার সুদীপ চক্রবর্তী বলছেন, অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানা, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের কোন গাফিলতি ছিল কিনা জানতে তারা একটি তদন্ত কমিটি গঠন করবেন। তদন্ত কমিটি কর্তৃপক্ষের গাফিলতি খুঁজে পেলে আইনগত ব্যবস্থা নিবে।
তিনি আরও বলেন, তাঁবু দিয়ে তৈরি ওই করোনা ইউনিটে বিপুল পরিমাণ স্যানিটাইজারসহ বিভিন্ন দাহ্য পদার্থ ছিল। যার ফলে আগুন দ্রুত ছড়ায়। তারা ৯টা ৪৮ মিনিটে ৯৯৯ এর মাধ্যমে আগুন লাগার খবর পান।
রাতে ইউনাইটেড হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ৫ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তারা শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছেন। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। তারা তদন্ত কমিটিকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করছেন।