সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় আরও ৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তৃতীয় দিনে বৃহস্পতিবার সকালে চারজনের লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় এখনও ৯ জন নিখোঁজ রয়েছে।
চৌহালি উপজেলা ও এনায়েতপুর থানার স্থল ইউনিয়নের স্থলচর এলাকায় যমুনা নদীতে গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ৭৫ জন যাত্রী নিয়ে নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে।
এতে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গত ৩ দিনে নিহত ৯ জনের লাশ উদ্ধার করেছে। এ ছাড়া ৫৭ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে।
এ বিষয়ে এনায়েতপুর থানার ওসি মোল্লা মাসুদ পারভেজ বলেন, ঘটনার প্রথম দিন মঙ্গলবার ৩ জন, বুধবার সকালে ২ জন ও আজ তৃতীয় দিন বৃহস্পতিবার সকালে ৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন- বেলকুচি উপজেলার গয়লাকান্দি গ্রামের মৃত পাশান ফকির (৬৫) ও একই উপজেলার কলাগাছি গ্রামের শামীম হোসেনের ছেলে নাঈমুল ইসলাম (৪), টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার সুবর্ণগাতী গ্রামের আব্দুল মজিদের ছেলে ওয়েলডিং মিস্ত্রী শেখ কামাল (৪০), শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরি ইউনিয়নের জয়পুরা গ্রামের নছিম মোল্লার ছেলে আজিজল মোল্লা (৩৮) ও একই গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে আমজাদ হোসেন (৪০)।
তিনি আরো বলেন, বুধবার সকালে চৌহালি উপজেলার জোতপাড়া থেকে উদ্ধারা হলেন শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরি ইউনিয়নের জয়পুরা গ্রামের নছিম মোল্লার ছেলে আজিজল মোল্লা (৩৮) ও আমজাদ হোসেনের (৪০)।
এ ছাড়া বৃহস্পতিবার সকালে যমুনা নদীতে ভাসমান অবস্থায় এনায়েতপুর থেকে ১ জন, খাস কাউলিয়ারচর থেকে ১ জন, পয়লারচর থেকে ১জন, স্থলচর এলাকা থেকে ১ জন ও ঘুষুরিয়া থেকে ১ জন। মোট ৫ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ জনের পরিচয় পাওয়া গেছে।
তিনি মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার আলম মিয়া। অপর ৪ জনের পরিচয় পাওয়া পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে স্থল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এ দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এনায়েতপুর ঘাট থেকে ছেড়ে আসা একটি ইঞ্জিনচালিত শ্যালো নৌকা চৌহালির দিকে যাচ্ছিল। ঘটনাস্থলে পৌঁছালে ঝড়ো হাওয়া ও প্রচণ্ড স্রোতের ধাক্কায় নৌকাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
তিনি আরও জানান, নৌকা যাত্রীদের অধিকাংশই ধানকাটা শ্রমিক। তারা এদিন টাঙ্গাইলের করোটিয়া ও মির্জাপুর এলাকায় ধানকাটার কাজে যাচ্ছিল। খবর পেয়ে এনায়েতপুর থানা পুলিশ ও বেলকুচি ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক মনজিল হক জানান, ঢাকা থেকে ডুবুরি দল এসে বুধবার সকাল থেকে উদ্ধার কাজ শুরু করে।
এ বিষয়ে চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেওয়ান মওদুদ আহম্মেদ জানান, সকালে ৪ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখনও ১০ জন নিখোঁজ রয়েছে।
এ দিকে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড.ফারুক আহমেদ জানান, ঈদের পরে এমন ঘটনায় পুরো জেলাবাসী শোকে অাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে।
তিনি আরো বলেন, নিহতের পরিবারকে নগদ ২৫ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আহতদের চিকিৎসা বাবদও নগদ অর্থ প্রদান করা হবে।