হংকংকে নিয়ন্ত্রণ করার ‘বিতর্কিত’ আইন অনুমোদন চীনে

নিজেদের আধা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হংকংয়ে ‘দেশদ্রোহিতা বা রাষ্ট্রদ্রোহিতা’ ঠেকানোর জন্য ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি ল’ আইনটি অনুমোদন দিয়েছে চীনের জাতীয় আইনসভা ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেস। বিশ্লেষকেরা বলছেন, আইনের পর হংকংয়ের রাজনৈতিক স্বাধীনতা আরও খর্ব হবে।

নিউইয়র্ক টাইমস এবং সিএনএন জানিয়েছে, ভালোভাবে বিচার-বিশ্লেষণ না করেই বৃহস্পতিবার আইনটি অনুমোদন দেয়া হয়। হংকংয়ে সব ধরনের আন্দোলন ঠেকানোর জন্য মূলত চীন এই আইনটি করছে।

নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, এদিন সংসদে মাত্র একজন প্রতিনিধি প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দেন। ভোট দেয়া থেকে বিরত থাকেন ছয়জন। পক্ষে ভোট পড়ে ২ হাজার ৮৭৮টি।

অনুমোদনের পর এনপিসির স্থায়ী কমিটি আইনটির খসড়া করবেন। এটি করতে দুই মাসের মতো সময় লাগবে। তারপর হংকংয়ের আইনসভায় পাসের মাধ্যমে সরকারের ওপর এটি জারি হবে। হংকংয়ের আইনসভায় সাধারণত চীনের কোনো আইন আটকায় না।

গত বছর এমনই আরেকটি আইন নিয়ে চীনের আধা স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল হংকংয়ের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক রীতিমতো অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে। ওই সময় বন্দি প্রত্যর্পণের সুযোগ রেখে চীন একটি আইন পাস করতে চাইলে প্রতিবাদে ফেটে পড়ে হংকং। কয়েক মাসের টানা আন্দোলনের মুখে পিছু হটে চীন। সেই আন্দোলন পরে গণতন্ত্রের দাবিতে রূপ নেয়।

১৯৯৭ সালে ব্রিটিশদের কাছ থেকে হংকং শহরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর আর কখনো এত ঝামেলায় পড়েনি চীন। বিক্ষোভ দমাতে কঠোর হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েও সফল হয়নি তারা।

এরপর মোটামুটি সব ঠিক থাকলেও হংকংকে নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা থেকে সরে আসেনি চীন। নতুন আইনকে হংকংয়ের স্থানীয়রা তাদের পায়ে ‘পরাধীনতার শিকল’ পরানোর সঙ্গে তুলনা করে আবার আন্দোলনে নেমেছেন। চলছে ধরপাকড়।