করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশের কারাগারগুলোয় খোলা জায়গায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি। কারাবন্দিদের জন্য ঈদে বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে স্বজনদের সঙ্গে দেখা ও পাঠানো খাবার দেওয়া বন্ধ ছিল। দেশের ৬৮টি কারাগারে এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
কারাগার সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রায় ৮ হাজার ৭০০ বন্দি রয়েছেন। ঈদের দিন সকালবেলায় তাদের সেমাই আর মুড়ি নাশতা খেতে দেওয়া হয়। দুপুরে দেওয়া হয় পোলাও, গরু বা খাসির মাংস, সালাদ, একটি করে মিষ্টি পান সুপারি। আর রাতে সাদা ভাত, রুই মাছ ও আলুরদম দেওয়া হয়।
ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মাহবুবুল ইসলাম জানিয়েছেন, প্রতি বছর কেরানীগঞ্জ কারাগারের ভেতরে বিশাল দুটি মাঠে বন্দিদের নিয়ে একযোগে ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। তবে এবার করোনার কারণে তারা নিজ নিজ সেলেই নামাজ পড়েছেন। করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর থেকেই দেশের সব কারাগারে নেওয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। তবুও কারাগারে বেশ কয়েকজন বন্দির করোনা-সংক্রমণের তথ্য মিলেছে। কারাগারে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা হচ্ছে। স্বজনদের সঙ্গেও বন্দিদের দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। কারা অধিদপ্তরের হিসাব মতে, সারা দেশের কারাগারগুলোতে ৭৫ হাজার ৬১৭ জন বন্দি রয়েছেন। এদের মধ্যে পুরুষ বন্দি ৭২ হাজার ৬৩৯ জন, আর মহিলা বন্দি ২ হাজার ৯৭৮ জন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের জেল সুপার সুভাষ কুমার ঘোষ জানান, ইতিমধ্যে জেলা কারাগারে বেশ কয়েকজন কারারক্ষী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশনে ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ নিয়ে বন্দিদের স্বজনদের মধ্যেও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।