করোনাভাইরাস মহামারিতে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ও বয়স্কদের আরও বেশি সতর্ক হওয়ার কোনো বিকল্প নেই। তাদের নিয়ে এক গবেষণা প্রতিবেদনের উদ্বৃতি দিয়ে তেমন উদ্বেগজনক সংবাদই প্রকাশ করেছে বার্তা সংস্থা এএফপি।
শুক্রবার ডায়াবেটোলোজিয়া জার্নালে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডায়াবেটিস রোগীদের করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সাতদিনের মধ্যেই ১০ শতাংশের মৃত্যু হয়।
গবেষণা চালানোর জন্য বেছে নেওয়া হয় তেরোশো’র বেশি রোগী। তাদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ ছিল পুরুষ, বাকিরা নারী। তাদের গড় বয়স ৭০।
প্রাপ্ত ফলাফল নিয়ে গবেষকেরা এক বিবৃবিতে বলেছেন, “ডায়াবেটিক সমস্যা এবং অধিক বয়সের কারণে (করোনাভাইরাসে) মৃত্যু বেড়ে যায়।”
“অতিরিক্ত বিএমআই (বডি মাস ইনডেক্স) যেমন যান্ত্রিক ভেন্টিলেশন নেওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়, তেমনি মৃত্যুর ঝুঁকিও বাড়ায়।”
ডায়াবেটিক সমস্যার সঙ্গে কভিড-১৯ আক্রান্ত নিয়ে ১০ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত ফ্রান্সের ৫৩টি হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীগুলো পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, তাদের প্রায় অর্ধেকই রক্তনালী, চোখ, কিডনি ও স্নায়ুবিক সমস্যায়ও পড়েছেন।
আর ৪০ শতাংশের বেশি রোগীর ক্ষেত্রে দেখা দিয়েছে ধমনী বড় হয়ে যাওয়া, ব্রেইন ও পায়ের সমস্যা। সাধারণ করোনা রোগীর তুলনায় ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ও অতি বৃদ্ধ এসব করোনা রোগীর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার সাতদিনের মধ্যে মৃত্যু ঝুঁকি দ্বিগুণ।
গবেষনা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যেসব রোগীর বয়স ৭৫’র বেশি তাদের মৃত্যু ঝুঁকি ৫৫ বা এর কমবয়সীদের তুলনায় ১৪ গুণ বেশি। এসব রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর সাতদিনে দেখা গেছে, এই সময়ে অনেকের ভেন্টিলেটর লেগেছে, এর মধ্যে ১০ শতাংশের মৃত্যু হয়েছে। চারভাগের একভাগ হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন।
গবেষণায় বলা হয়েছে, কভিড-১৯ চরম পর্যায়ে পৌঁছানোর পরও সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণের জন্য ডায়াবেটিস রোগী ইনসুলিন বা অন্যান্য চিকিৎসা অব্যাহত রাখতে পারেন। তবে এ সমস্যার কারণে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও ফুঁসফুসের জটিলতায় ঝুঁকি তৈরি হয়।