করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র। গত বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের করোনা নিয়ন্ত্রণ পরিস্থিতি ও এ বিষয়ে ট্রাম্পের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে অনলাইনে একটি কলাম প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য ইকোনমিস্ট। প্রিন্ট পত্রিকাতেও ‘দ্য আমেরিকান ওয়ে’ নামে ছাপা হয়েছে এটি। সেখানে বলা হয়, অনেক আমেরিকান নাগরিকই ভাবছেন তাদের প্রেসিডেন্ট মহামারী পরিস্থিতি খুব জঘন্যভাবে নিয়ন্ত্রণ করছেন। কারণ এক লাখের কাছাকাছি মৃত্যু আর কোনো দেশে ঘটেনি। এমনকি টাইমস স্কয়ারে ‘ট্রাম্প ডেথ ক্লক’ স্থাপন করা হয়েছে, যেখানে প্রেসিডেন্টের অদক্ষতায় কতগুলো প্রাণহানি হচ্ছে তার সংখ্যা দেখানো হচ্ছে। তবে ট্রাম্পের অদক্ষতার কারণেই আমেরিকা করোনা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে এটি এখনই নিশ্চিত ধরে নেওয়া যায় না।
যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি হিসাবে মৃত্যুর হার ইউরোপীয় দেশগুলোর প্রায় সমান। সেখানেও অনেক মৃত্যু হয়েছে, তবে কম অস্থির নেতা এবং সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা রয়েছে তাদের। ইতালির লোম্বার্দি শহরের মতোই আক্রান্ত হয়েছে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ায় তাদের অবস্থা অনেকটা জার্মানির মতো, গ্রামীণ রাজ্যগুলোও অনেকটা মধ্য ইউরোপের মতো সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা থেকে বেঁচে গেছে। করোনা সংক্রমণ যখন প্রথম শুরু হলো তখন রাষ্ট্রপ্রধানদের মধ্যে এ নিয়ে পরিকল্পনায় উদাসীনতা লক্ষ করা গেছে। এটি যখন নিউইয়র্ক, লন্ডন, প্যারিসের মতো বড় ও ঘনবসতিপূর্ণ শহরগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছে, তখন সেখানকার লোকেরা কেয়ারহোম, কসাইখানায় দলবদ্ধভাবে ঘুরেছে, এমনকি কারাগারেও গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে। সেই সময় আমেরিকাসহ অনেক দেশেই করোনা টেস্ট ছিল অপ্রতুল।
করোনায় চীনে যা ঘটেছে তা দেখে তাইওয়ান, সিঙ্গাপুর, ভিয়েতনামের মতো ট্রাম্পও দ্রুত ব্যবস্থা নিতে পারতেন। সংকটকালে সুস্পষ্ট সরকারি নির্দেশনা জারি বা কেন্দ্রীয়ভাবে সব ব্যবস্থার সমন্বয় করার মতো প্রত্যাশিত বিষয়গুলো বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। এর বদলে বারবার হাতুড়ে চিকিৎসা, ভোটদান পদ্ধতি, এমনকি যে হত্যাকাণ্ড কখনোই ঘটেনি তার জন্য এক টেলিভিশন উপস্থাপককে দায়ী করায় ব্যস্ত ছিলেন এ রিপাবলিকান নেতা।
বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য, শহর ও কাউন্টিতে লকডাউনের ভিন্নতা রয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়া সংক্রমণ শুরুর সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবস্থা নিয়েছে। হোয়াইট হাউজকে অনেকটা বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় গভর্নররা কড়াকড়ি আরোপ করেছেন। এতে মেরিল্যান্ড ও ম্যাসাচুসেটসের গভর্নররা ট্রাম্পের বিরাগভাজন হলেও তাদের প্রতি সমর্থন বেড়েছে অনেকেরই। ফ্লোরিডাতে কাউন্টি কর্মকর্তারা ঠিকই লকডাউন জারি করেছেন।