ঝালকাঠিতে এক কলেজ ছাত্রীকে আটকে রেখে ধর্ষণের পর পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে ৬ জনকে আটক করেছে পুলিশ ।
শুক্রবার দুপুরে ওই কলেজ ছাত্রী বাদী হয়ে জেলার কাঠালিয়া থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ৪ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করার পর ধর্ষকসহ ৬ জনকে আটক করে পুলিশ।
আটককৃতরা হলেন- রিপন জমাদ্দার, হোসনেয়ারা বেগম, তানিয়া বেগম, বেল্লাল খান, আক্কাস হাওলাদার ও রাকিব হাওলাদার । ধর্ষিতা কলেজ ছাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঝালকাঠি সিভিল সার্জন কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ওই ছাত্রীর সাথে পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলার মাছুয়াখালী গ্রামের ওবায়দুল হাওলাদারের ছেলে রিমন ওরফে তানভীর হাওলাদারের সাথে ফেইসবুকের মাধ্যমে এক বছর পূর্বে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে । গত মঙ্গলবার রিমন তার বন্ধু রায়হানকে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে নাজিরপুরের বৈঠাঘাটা ব্রিজের কাছে ওই ছাত্রীর সাথে দেখা করে। পরে তারা সবাই ভান্ডারিয়া-কাঠালিয়া হয়ে বরগুনার পাথরঘাটার উদেশ্যে রওনা হয়।
কিন্তু পথ ভুলে কাঠালিয়া উপজেলার পাটিকালঘাটায় চলে গেলে মাঝেরপুল নামক স্থানে বখাটে জনির নেতৃত্বে আরও পাচজন মিলে তাদের মোটরসাইকেল আটকিয়ে রিমন ও তার বন্ধু রায়হানকে জোড় পূর্বক অন্যত্র নিয়ে যায় এবং ওই ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের অজুহাতে পার্শ্ববর্তী ফারুক জমাদ্দারের বাগানে নিয়ে ধর্ষণ করে। পরে তাদেরকে স্থানীয় হোসনেয়ারা বেগমের বাড়িতে আটকে রেখে উভয় পরিবারের কাছে এক লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে বখাটে দলটি।
ওই ছাত্রীর পরিবার টাকা দিতে রাজি না হলেও প্রেমিক রিমনের পরিবার ৩০ হাজার টাকা বিকাশের মাধ্যমে পাঠিয়ে বিষয়টি গোপনে পুলিশকে জানায়। পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার চেঁচরী এলাকার একটি বিকাশের দোকান থেকে জনির দলের দুই জনকে আটক করে। তাদের তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বৃহস্পতিবার রাতে পাটিখালঘাটা হোসনেয়ারার বাড়ি থেকে ভিকটিমসহ ৩জনকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে আজ জনির দলের আরো চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কাঠালিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ পুলুক চন্দ্র রায় বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা কলেজ ছাত্রী ও তার প্রেমিক রিমনসহ বন্ধু রায়হানকে উদ্ধার করেছি। ধর্ষিতা ওই কলেজ ছাত্রীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ঝালকাঠি সিভিল সার্জন কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দলনেতা জনিসহ বাকি আসামিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।