ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে খুলনার উপকূলীয় কয়রা উপজেলায় বাঁধ ভেঙে লোনা পানি ঢোকায় মিষ্টি পানির প্রায় সব আধার নষ্ট হয়ে গেছে। লোনা পানিতে সয়লাব হয়ে গেছে গোটা এলাকা। সেই সঙ্গে অকেজো হয়ে গেছে উপজেলার ৯০০ নলকূপ। ফলে উপজেলাজুড়ে খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বরের সিডরের জলোচ্ছ্বাসের পর পানি দ্রুত নেমে গিয়েছিল। ২০০৯ সালে আইলার জলোচ্ছ্বাসের পানিও দ্রুত নেমে যায়। ২০১৯ সালে ঘূর্ণিঝড় ফণি ও বুলবুলে উপজেলায় তেমন ক্ষতি হয়নি। কিন্তু গত ২০ মে আম্পানে চার ঘণ্টার তান্ডবে বাঁধ, ঘরবাড়ি লন্ডভন্ড হয়ে যায়। উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশি, উত্তর বেদকাশি, কয়রা সদর ও মহারাজপুর ইউনিয়নের ৫২টি গ্রামে বিশুদ্ধ পানি নেই। অন্য তিনটি ইউনিয়নেরও অধিকাংশ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত।
কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় থেকে জানা গেছে, আম্পানে কয়রার চারটি ইউনিয়নের ৫২টি গ্রাম সম্পূর্ণ এবং দুটি ইউনিয়নের ২৪টি গ্রাম আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ২১টি স্থানে বাঁধ ভেঙে গেছে। ৫১ হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১ লাখ ৮২ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রে পানি না পেয়ে অনেকে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে ৩২ লিটার পানি ৫০ টাকায় কিনতে হচ্ছে।
সরেজমিন গত বৃহস্পতিবার দেখা গেছে, কেউ নৌকায় করে আবার কেউ কলার ভেলায় পাত্র নিয়ে সাঁতরে পানি আনছে। সদর উপজেলার গোবরা ঘাটাখালি গ্রামে গিয়ে দেখা যায় মানুষ নৌকায় নদী পার হয়ে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে কয়রা সদরে পানি আনতে যাচ্ছে। মহারাজপুর ইউনিয়নের দশালিয়া গ্রাম থেকে ৫ কিলোমিটার হেঁটে মানুষ পানি নিতে আসছে কালনা গ্রামে। অনেকে ভ্যানে করে পানি বিক্রি করছে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর খুলনা কার্যালয় সূত্র জানায়, আম্পানের প্রভাবে কয়রায় তাদের দেওয়া ৯০০ নলকূপ অকেজো হয়ে পড়েছে। বিশুদ্ধ খাবার পানি সরবরাহে কয়রা সদরে দুটি ভ্রাম্যমাণ প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে। একটি প্লান্টে লবণ পানি সুপেয় করার কাজ চালু হয়েছে। সদর থেকে বিশুদ্ধ পানি প্রশাসনের লোকজন প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছে দিচ্ছে। যোগাযোগব্যবস্থা স্বাভাবিক হলে প্রত্যন্ত এলাকায় আরও দুটি ভ্রাম্যমাণ প্লান্ট স্থাপন করার প্রস্তুতি রয়েছে। পাশাপাশি কয়রায় চার লাখ পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট সরবরাহ করা হয়েছে। কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিমুল কুমার সাহা বলেন, প্রশাসন থেকে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মঞ্জুর মোর্শেদ বলেন, স্থানীয় লোকজনের সুবিধার্থে ২০০টি হাইজিন চিফ বক্স ও ৩০০টি হাইজিন বক্স সরবরাহ করা হয়েছে। কয়রার পাশাপাশি পাইকগাছা ও দাকোপেও একটি করে ভ্রাম্যমাণ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন করা হয়েছে।